দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের অন্তত ২৪ জেলার মানুষ উপকৃত হবেন। বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের নেতৃত্বে একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে কুষ্টিয়ায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের আওতাভুক্ত গড়াই অফটেক স্ট্রাকচার নির্মাণস্থল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
পানি সম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘এই অঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন ও বন্যায় মানুষ ব্যাপক ক্ষতির শিকার হন। আবার শুষ্ক মৌসুমে নদীতে লবণাক্ততা বেড়ে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় উপকূলীয় অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য। সবদিক বিবেচনায় নিয়ে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
তিনি জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় সাত বছর সময় লাগবে।
পরিদর্শনকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রকল্পের বিভিন্ন দিক মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। কর্মকর্তারা জানান, গড়াই নদের উৎসমুখে অফটেক চ্যানেলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে সারা বছর বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি গড়াই নদে প্রবাহিত করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী পদ্মা থেকে গড়াই নদীর উৎপত্তিস্থলসহ প্রকল্পের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন। দৌলতপুরে পদ্মা নদী থেকে উৎপত্তি হওয়া হিসনা নদীকেও এ প্রকল্পের আওতায় রাখা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান।
উল্লেখ্য, গত ১৩ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে একনেকের সভায় ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় নদীশাসন, অ্যাপ্রোচ রোড, পাকা সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া কুষ্টিয়ার গড়াই ও হিসনা নদী এবং চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা নদীশাসনের কাজও প্রকল্পের আওতাভুক্ত রয়েছে।
পরিদর্শন শেষে পানি সম্পদমন্ত্রী কুষ্টিয়া সার্কিট হাউসে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজা আহম্মেদ বাচ্চু মোল্লা, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিনসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

