শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী
ইলিশের সঙ্গে সবজি হিসেবে শাপলার জুড়ি মেলা ভার। একসময় গ্রামের মানুষের প্রিয় খাবারের তালিকায় ছিল ইলিশ আর শাপলা। তবে দিন দিন ইলিশের দাম বাড়তে থাকায় তা অনেকেরই ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ইচ্ছা থাকলেও সাধ্য না থাকায় অনেকেই এখন ইলিশের স্বাদ থেকে বঞ্চিত।
তবে রসনাবিলাসী মানুষের অপেক্ষা থাকে—কখন কমবে ইলিশের দাম, আর কবে বাড়িতে রান্না হবে শাপলা-ইলিশ। বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ইলিশের সরবরাহ বাড়লে এবং বাজারে অন্যান্য মাছের আমদানি বাড়ায় ইলিশের দাম কিছুটা কমে আসে। তখন সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইলিশ কেনার আগ্রহ বাড়ে। আর এর সঙ্গে বাড়তে থাকে শাপলার চাহিদাও।
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে সম্প্রতি দেখা গেছে, শাপলা বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। আশপাশের জেলা গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা শাপলা এনে চিতলমারীর বাজারগুলোতে বিক্রি করছেন।
বাখরগঞ্জ বাজারে শাপলা বিক্রি করতে আসা সাইফুল শেখ জানান, তিনি বাগেরহাটের ফয়লা এলাকা থেকে পাইকারি দরে শাপলা কিনে এনেছেন। বাখরগঞ্জ, দেপাড়া ও আশপাশের বিভিন্ন হাট-বাজারে এসব শাপলা বিক্রি করেন তিনি।
সাইফুল শেখ বলেন, “বর্তমানে বাজারে ইলিশের দাম কিছুটা কম থাকায় শাপলার চাহিদাও বেড়েছে। মাঝারি আকারের ইলিশ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ইলিশের সঙ্গে শাপলাও ভালো বিক্রি হচ্ছে।”
গোপালগঞ্জ থেকে শাপলা বিক্রি করতে আসা আনিসুল জানান, মিষ্টি পানির এলাকার শাপলা স্বাদে বেশ ভালো। বিভিন্ন বিল থেকে স্থানীয়রা শাপলা তুলে তাদের কাছে বিক্রি করেন। পরে সেগুলো রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার হাট-বাজারে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, “বর্তমানে শাপলার বেশ চাহিদা রয়েছে। প্রতি আঁটি শাপলা ২০ টাকা দরে বিক্রি করছি।”
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইলিশের দাম কিছুটা কমে এলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইলিশ কেনার আগ্রহ বাড়ে। আর ইলিশের সঙ্গে রান্নার জন্য শাপলার চাহিদাও তখন বেড়ে যায়। ফলে বছরের এই সময়টায় শাপলা বিক্রিও জমে ওঠে।

