দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নারীদের পোশাক ও বোরকা পরে চুরি করতে যাওয়ার অভিযোগে ইসরাইল (৩০) নামে এক যুবককে আটক করে গণধোলাই দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন স্থানীয়রা। তবে পুলিশের দাবি, দুই পরিবারের পূর্ববিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। চুরির অভিযোগের পক্ষে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো আলামত বা তথ্য পাওয়া যায়নি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য স্থানীয় সংবাদকর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সিমারুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মণ্ডলপাড়া গ্রামের মকলেছুর রহমানের বাড়িতে বোরকা ও নারীদের পোশাক পরে ইসরাইল প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি ঘরের ভেতর থেকে মোবাইল ফোন চুরির চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ করেন বাড়ির লোকজন। মকলেছুর রহমানের স্ত্রী মালা খাতুন তাকে দেখতে পেয়ে আটকানোর চেষ্টা করেন। ইসরাইল পালানোর চেষ্টা করলে মালা খাতুনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে আটক করেন এবং মারধর করেন।
পরে তার পরনে থাকা বোরকা খুলে তিনি পুরুষ বলে শনাক্ত হন। স্থানীয়রা তাকে মারধর করে বেঁধে রাখেন বলে জানা গেছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরে স্থানীয়রা ইসরাইলকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
এদিকে ঘটনার তথ্য সংগ্রহের সময় সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সংবাদকর্মীদের চাপ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতা সিমারুলের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সংবাদকর্মীদের দাবি, ঘটনার পর রোববার সকালে সিমারুল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ না করার জন্য তাদের চাপ দেন। এ সময় তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, তার কথা না শুনে কোনো সংবাদ প্রকাশ করা যাবে না; সংবাদ প্রকাশ হলে “খবর আছে” বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ সংবাদকর্মীদের।
অভিযোগের বিষয়ে সিমারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে আড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক ইনজাল হোসেন বলেন, “সিমারুল আড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। চুরি বা কোনো অপরাধকে দল সমর্থন করে না। তবে চুরির বিষয়টি আমাদের তদন্তাধীন রয়েছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে সিমারুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, “আড়িয়া এলাকায় একজন ব্যক্তিকে মেয়েদের পোশাক পরা অবস্থায় চোরের অপবাদ দিয়ে স্থানীয়রা বেধড়ক মারধর করেছে। এতে তার পা ও কোমরে আঘাত লাগে। এ কারণে তাকে আমরা আটক দেখাইনি। দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই দ্বন্দ্ব রয়েছে, সেই কারণেও ঘটনাটি ঘটতে পারে। চুরির অভিযোগকারীরা চুরির কোনো সুনির্দিষ্ট আলামত দেখাতে পারেননি। এ ঘটনায় দুই পরিবার থেকে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

