Nabadhara
ঢাকাশনিবার , ৩ অক্টোবর ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশাল-মাদারীপুর সীমান্তে সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ-লুটপাট; আহত ২০

গিয়াস উদ্দিন মিয়া, গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

গিয়াস উদ্দিন মিয়া, গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বরিশাল ও মাদারীপুর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও দোকানপাটে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত গৌরনদী, কালকিনি ও ডাসার উপজেলার সীমান্তবর্তী ভূরঘাটা বাজার এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। এতে স্থানীয় দোকানদার ও পথচারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ডের ১৪টি দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

সংঘর্ষের সময় ভূরঘাটা ব্রিজের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করা হলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার মজিদবাড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে একটি লোকাল বাসে ওঠেন ডাসার উপজেলার ইমরাত ঘরামী। বাসের ভাড়া নিয়ে বাসের স্টাফদের সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এর জেরে ওই দিন বিকেলে ইমরাতসহ ৮ থেকে ১০ জন গৌরনদী এলাকার একটি লোকাল বাস কাউন্টার বন্ধ করে দেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। এ সময় বাসের স্টাফ ও স্থানীয়দের সঙ্গে তাদের মারধরের ঘটনা ঘটে।

এর জেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় ইমরাতসহ তার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গৌরনদীর সীমান্তবর্তী এলাকায় মহড়া দিলে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করেন। খবরটি দুই জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হয়। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। পরে উত্তেজিত লোকজন ভূরঘাটা ব্রিজের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন।

এদিকে কালকিনি ও ডাসার এলাকার লোকজন ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ডের ১৪টি দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মালিকদের মধ্যে কালাম ফকির, ইব্রাহীম সরদার, রাহাত ফকির, নুর আমিন, শামসুল হক হাওলাদার, সিদ্দিক সরদার, আফজাল ফকির, তন্ময় পাল, সজীব বেপারী, কাওছার তালুকদার, মহসীন বেপারী ও ছোবহানসহ ১৪ জন রয়েছেন।

মুদি দোকানি শামসুল হক হাওলাদার বলেন, “কালকিনি ও ডাসারের কয়েকশ লোক ককটেল বিস্ফোরণ করে পুলিশের উপস্থিতিতে আমার দোকানসহ ১৪টি দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। দোকানের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। আমি বাধা দিলে আমাকে রক্তাক্ত জখম করা হয়। আমার আয়ের একমাত্র অবলম্বন লুট করে নিয়ে গেছে হামলাকারীরা। আমি এর বিচার চাই।”

হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন জুয়েল হাওলাদার (৩৫), স্বজল বেপারী (৩২), সবুর বয়াতি (৩৫), দিদার ফকির (৩০), ফিরোজ কাজী (৪৫), ইনাম তালুকদার (৩০), আদর কাজী (২২), সামসুল হাওলাদার (৪৫), সুমন বয়াতি (৩০), শোশারফ সরদার (৪০) ও ইশ্রাফিল (৫০)। স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহতের সংখ্যা অন্তত ২০ জন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যায় গৌরনদী, কালকিনি ও ডাসার থানা পুলিশ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পুলিশের তৎপরতায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, “বর্তমানে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত রয়েছে। পুনরায় যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য উভয় থানার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।