অশোক মুখার্জি, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জেলেদের সরকারি তালিকায় প্রায় ১৮ হাজার ৩০৫ জনের নাম থাকলেও এর মধ্যে অন্তত ৮ হাজারই প্রকৃত জেলে নন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে শত শত প্রকৃত জেলে তালিকায় নাম না থাকায় নিষেধাজ্ঞাকালীন সরকারের খাদ্য সহায়তা ও বিশেষ প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে তালিকা সংশোধন ও হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনো শেষ হয়নি।
মৎস্য অফিস ও মাঠপর্যায়ের জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তালিকাভুক্ত জেলেদের মধ্যে পেশা পরিবর্তনকারী, মৃত, এলাকা ছেড়ে যাওয়া এবং প্রকৃত জেলে নন—এমন প্রায় ৮ হাজার নাম শনাক্ত করা হয়েছে। এসব নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া কয়েক বছর আগে চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। একই সঙ্গে নতুন করে জেলে তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রায় ১১ হাজার আবেদন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
জেলেরা অভিযোগ করেছেন, প্রকৃত জেলেদের বাদ রেখে বিপুলসংখ্যক অপেশাদার ব্যক্তির নাম তালিকায় থাকায় ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞাকালে সরকারের দেওয়া ভিজিএফের খাদ্য সহায়তা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। এ নিয়ে ক্ষোভের পাশাপাশি চাল বিতরণে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কাও করছেন তারা।
প্রকৃত জেলেদের তালিকাভুক্ত করার দাবিতে বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন, প্রতিবাদ ও সমাবেশ করেছেন জেলেরা। লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন তারা। উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির উদ্যোগে নতুন করে প্রকৃত জেলেদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হলেও নতুন আবেদনকারীদের মধ্যেও ভুয়া নাম রয়েছে বলে দাবি করেছেন পেশাদার জেলেরা।
কুয়াকাটার জেলে হানিফ মাঝি বলেন, “যাচাই-বাছাই শেষে তালিকা চূড়ান্ত করার আগে এর একটি খসড়া প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার সামনে টানিয়ে দেওয়া দরকার। তাহলে তালিকায় কোনো ভুল বা রদবদল থাকলে স্থানীয় জেলেরা তা জানাতে পারবেন।”
সদ্য বদলি হওয়া কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানিয়েছিলেন, তালিকা যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত জেলেদের নাম সংবলিত নতুন তালিকা তৈরির কাজ চলছে। পুরোনো তালিকা থেকে পেশা পরিবর্তনকারী, মৃত, এলাকা ত্যাগকারী ও প্রকৃত জেলে নন—এমন প্রায় ৮ হাজার নাম বাদ পড়তে পারে। পাশাপাশি নতুন করে জেলে তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রায় ১১ হাজার আবেদন পাওয়া গেছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, সাগর ও নদীতে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞাকালীন সরকারের দেওয়া বিশেষ খাদ্য সহায়তার চাল প্রকৃত জেলেদের মধ্যে বিতরণ নিশ্চিত করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা জেলে তালিকা হালনাগাদের কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা পাওয়া যায়নি।

