Nabadhara
ঢাকাশুক্রবার , ৯ অক্টোবর ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ডিজিটাল যুগে ধুঁকছে চিঠির ঘর, জনবল সংকটে চিতলমারীর ডাক বিভাগ

শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী
অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী

স্মার্টফোন, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত বিস্তারে হারিয়ে যাচ্ছে কাগজের চিঠির প্রচলন। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডাক বিভাগের আধুনিকায়নের প্রয়োজন বাড়লেও বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া সাব-পোস্ট অফিস এখনো চলছে পুরোনো ব্যবস্থায়। একসময় গ্রামীণ জনপদের মানুষের যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেনের অন্যতম ভরসা ছিল এই ডাকঘর। বর্তমানে ব্যক্তিগত চিঠির আদান-প্রদান কমে যাওয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা ও জনবল সংকটে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় চিঠি পাঠানো, মানি অর্ডারে টাকা লেনদেন এবং দূর-দূরান্তের স্বজনদের খবর জানার অন্যতম মাধ্যম ছিল ডাকঘর। কিন্তু ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থার প্রসার এবং বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের বিস্তারে সেই চিত্র বদলে গেছে। বর্তমানে সরকারি চিঠি ও বিভিন্ন দাপ্তরিক কাগজপত্রের আদান-প্রদান ছাড়া ব্যক্তিগত চিঠির ব্যবহার প্রায় নেই বললেই চলে। অন্যদিকে, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে সরকারি ডাকসেবা কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোতে পারছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বড়বাড়িয়া সাব-পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার মো. আলী হায়দার জানান, অফিসটিতে পাঁচজন জনবল থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র তিনজন। আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা না থাকায় এখনো পুরোনো পদ্ধতিতে হাতে লিখে বিভিন্ন কাজ করতে হচ্ছে। সরকারি চিঠি ও কাগজপত্র ছাড়া ব্যক্তিগত চিঠি কিংবা আগের মতো মানি অর্ডারের কার্যক্রমও তেমন নেই।

তিনি আরও জানান, চিতলমারী উপজেলায় ১৫টি ব্রাঞ্চ অফিস রয়েছে। প্রতিটি অফিসে দুজন করে জনবল থাকার কথা থাকলেও কোনো কোনো অফিসে মাত্র একজন কর্মী দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এসব অফিসের অনেকগুলোর নিজস্ব সরকারি কার্যালয়ও নেই। কর্মীরা বাড়িতে বসেই দাপ্তরিক কাজ করেন এবং সরকার থেকে সামান্য সম্মানী পান। এতে কাজের আগ্রহ ও সেবার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলা পোস্টমাস্টার মো. রফিক সুমন বলেন, উপজেলা পর্যায়ে ডাক বিভাগের কিছু আধুনিকায়ন হলেও জনবল ও পরিবহন সংকট এখনো রয়েছে। তাঁর কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সাতজন থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র তিনজন। দক্ষ জনবলের অভাবও রয়েছে। তবে শূন্য থেকে দুই কেজি ওজনের চিঠিপত্রসহ অন্যান্য বৈধ মালামাল দেশের যেকোনো শহর বা গ্রামে মাত্র ১০ থেকে ১৫ টাকায় এক দিনের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার সেবা চালু রয়েছে বলে জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ডাক বিভাগের সেবাকে টিকিয়ে রাখতে হলে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, দক্ষ জনবল নিয়োগ, পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি। বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ঐতিহ্যবাহী এই সেবাব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করে তুলতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে একসময়ের মানুষের আস্থার প্রতীক ডাকঘর ক্রমেই হারিয়ে যেতে পারে তার গুরুত্ব ও কার্যকারিতা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।