ফরিদপুর প্রতিনিধি
যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন এবং জোর করে তামাকজাত পদার্থ ‘গুল’ খাইয়ে হত্যার দায়ে মো. জিল্লুর মোল্যা নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। ঘটনার সাড়ে সাত বছর পর মামলাটির রায় হলো।
আদালত ও মামলার বিবরণে জানা যায়, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চরডাঙ্গা গ্রামের আছাদ মোল্যার ছেলে জিল্লুর মোল্যার সঙ্গে ওই নারীর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন জিল্লুর। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই কলহ হতো।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ বিকেল ৩টার দিকে স্বজনেরা খবর পান, ওই দিন দুপুর ১টার দিকে স্বামীর বাড়িতে ‘গুল’ খেয়ে ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে তাঁরা আলফাডাঙ্গায় আসামির বাড়িতে গিয়ে উঠানের একটি চৌকির ওপর তাঁর মরদেহ দেখতে পান।
এ ঘটনায় আলফাডাঙ্গা থানায় অপমৃত্যু ও হত্যা মামলা করা হয়। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) নাজিমুদ্দিন। তদন্ত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে, অতিমাত্রায় নিকোটিনের বিষক্রিয়ায় ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর শ্বাসনালি ও পরিপাকতন্ত্রে তামাকজাত ‘গুল’-এর উপস্থিতিও পাওয়া যায়। চিকিৎসকের মতামতে বিষক্রিয়ার কারণে শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত শেষে জিল্লুর মোল্যাকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রমাণ উপস্থাপন করে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করে।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, যৌতুকের কারণে গৃহবধূকে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় আদালতের এ রায় দৃষ্টান্তমূলক। এর মাধ্যমে যৌতুকলোভী ও নির্যাতনকারীদের কাছে কঠোর বার্তা পৌঁছাবে।

