পঞ্চগড় প্রতিনিধি
শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে পঞ্চগড়ের ২৬৮টি পূজামণ্ডপে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১৩)। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় সার্বজনীন দুর্গাপূজা মন্দিরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-১৩, রংপুরের সিপিসি-২ নীলফামারী ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার ও সহকারী পুলিশ সুপার আবু রোহানি পারভেজ রনী।
তিনি জানান, গত ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া দুর্গোৎসব আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে শেষ হবে। তবে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার থাকবে। পূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নাশকতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল এবং সাদাপোশাকে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। পূজামণ্ডপ বা প্রতিমা ভাঙচুর, চুরি, ডাকাতি কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা হলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিমা বিসর্জনের দিনও থাকবে বাড়তি নিরাপত্তা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, মিথ্যা সংবাদ ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে এসআরবির সাইবার মনিটরিং টিম ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি। যাচাই না করে কোনো তথ্য শেয়ার না করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি নাশকতা বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের কোনো তথ্য পেলে তা এসআরবিকে জানানোর অনুরোধ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রদীপ চন্দ্র ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক মধুসূদন বনিক, বাংলাদেশ পূজা ফ্রন্টের জেলা আহ্বায়ক মধুসূদন বনিক ও সদস্য সচিব নারায়ণ চন্দ্র ঝা।
এসআরবি-১৩ জানায়, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদযাপন কমিটি, গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতায় দুর্গাপূজা নিরাপদ ও আনন্দময় করতে তারা কাজ করছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

