শামীম শেখ,গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া নুর আমিন ফকির (৮) নামে এক শিশুর মরদেহ ২২ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে নিখোঁজ হওয়ার স্থানেই তার মরদেহ ভেসে ওঠে।
এর আগে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে দৌলতদিয়ার ৬ ও ৭ নম্বর ফেরিঘাটের মধ্যবর্তী এলাকায় নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয় শিশুটি। সে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাদাৎ মেম্বার পাড়ার রেজাউল ফকিরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে নুর আমিন গ্রামের চার সহপাঠীর সঙ্গে ফেরিঘাট এলাকায় যায়। একপর্যায়ে অভিভাবকদের অগোচরে তারা পদ্মা নদীতে গোসল করতে নামে। গোসলের সময় নুর আমিন পানিতে ডুব দিয়ে আর উঠে আসেনি। এ সময় তার সাত বছর বয়সী ফুফাতো ভাই ও সহপাঠী সাব্বির তাকে হাত ধরে টেনে তোলার চেষ্টা করে। ব্যর্থ হয়ে সে তীরে উঠে স্থানীয়দের খবর দেয়।
খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন, গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে ফায়ার সার্ভিস ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও শিশুটির সন্ধান মেলেনি। পরে স্বজনরাও ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজাখুঁজি করেন।
শনিবার সকালে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। এর মধ্যেই বেলা ১১টার দিকে নিখোঁজ হওয়ার স্থান থেকে শিশুটির মরদেহ ভেসে ওঠে। স্বজনরা মরদেহটি উদ্ধার করেন। এ সময় নদীতীরে স্বজন ও এলাকাবাসীর আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মানিকগঞ্জের আরিচা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ডুবুরি দল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। শনিবার সকালে অভিযান পুনরায় শুরুর পর বেলা ১১টার দিকে তার মরদেহ ভেসে ওঠে।
নুর আমিন দৌলতদিয়া হাফিজিয়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, নুর আমিন অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও মেধাবী শিশু ছিল। তার মৃত্যুতে এলাকার মানুষ গভীরভাবে শোকাহত।
দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ত্রিনাথ সাহা জানান, শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় ফাঁড়িতে একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের জন্য মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শনিবার বিকেল ৩টায় জানাজা শেষে স্থানীয় খানকা পাক কবরস্থানে শিশুটিকে দাফন করা হয়। তার দাদা আনোয়ার ফকির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

