Nabadhara
ঢাকামঙ্গলবার , ৩ নভেম্বর ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দৌলতপুরে মসজিদের মাইকে ডেকে ১২ দোকান-গোডাউন ভাঙচুর

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
নভেম্বর ৩, ২০২৬ ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীকে একত্র করে ১২টি দোকানঘর ও গোডাউন ভাঙচুর এবং মালামাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতে গেলে ভুক্তভোগীদের বাড়িঘর অবরুদ্ধ করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের হাটখোলাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সোনা মহলদার ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, হাটখোলাপাড়া এলাকার মৃত খলিল দফাদারের ছয় ছেলে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে থাকেন। সম্প্রতি তাঁদের মধ্যে সুনারুল দফাদার ও শওকত দফাদার দেশে ফেরেন। এরপর সোনা মহলদার, সিদ্দিক মহলদার, নুরু মহলদারসহ কয়েকজন এবং স্থানীয় কবরস্থানের সভাপতি লিটন মালিথা তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তিতে নির্মিত দোকানঘর ও গোডাউন মার্কেটের জমি কবরস্থানের বলে দাবি করেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রায় ৫০-৬০ বছর আগে তাঁদের দাদা কবরস্থানের জন্য ১৯৬২ সালের এসএ রেকর্ডভুক্ত একটি জমি বিক্রি করেছিলেন। ১৯৭৪ সালে আরএস রেকর্ডের সময় মূল দাগটি তিনটি দাগে বিভক্ত হয়। তবে কবরস্থানের জমি ও তাঁদের মার্কেটের জমির দাগ আলাদা। রাস্তা সংলগ্ন মূল্যবান জমি দখলের উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ এ বিরোধ সৃষ্টি করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সোমবার সন্ধ্যায় হাটখোলা জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে কবরস্থানের সদস্য ও গ্রামবাসীকে একত্র করা হয়। পরে তাঁদের দোকানঘর ও গোডাউন ভাঙচুর এবং মালামাল লুটপাট করা হয়। এ সময় সোনা মহলদার ঘোষণা দেন, যারা ভাঙচুরে অংশ নেবেন না, তাঁদের পরিবারের মরদেহ কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হবে না। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ভুক্তভোগী সুনারুল দফাদার বলেন, কবরস্থানের জন্য তাঁদের দাদা আলাদা জমি বিক্রি করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে যে জমিতে মার্কেট ও দোকানপাট রয়েছে, তার সঙ্গে কবরস্থানের জমির কোনো সম্পর্ক নেই। পুলিশের উপস্থিতিতেই তাঁদের দোকানপাট ভাঙচুর ও মালামাল লুট করা হয়েছে। সোনা মহলদার ও কবরস্থানের সভাপতি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তাঁদের বাড়িঘর অবরুদ্ধ করে রাখা হচ্ছে। বাইরে বের হলে বাড়িঘর ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং জমি উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সোনা মহলদার বলেন, ওই সম্পত্তি কবরস্থানের। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। এ কারণে কবরস্থানের সদস্যসহ প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করেছেন। তবে ঘটনার সময় তিনি সংসদ সদস্যের বাসায় ছিলেন বলে দাবি করেন।

কবরস্থানের সভাপতি লিটন মালিথা বলেন, মার্কেটের জমিটি কবরস্থানের সম্পত্তি। বারবার বলা সত্ত্বেও তাঁরা জমি ছেড়ে না দেওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে দোকানঘর ও গোডাউন ভাঙচুর করেছেন। তবে জমির মালিকানার কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি।

পুলিশের উপস্থিতিতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সৌদি আরবে থাকার সুযোগে তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।