বাকেরগঞ্জ( বরিশাল )প্রতিনিধি
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নের দক্ষিণ কাজলাকাঠী মোহসেনিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে অবৈধভাবে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র অভিযোগ করেছেন, তিনি কৌশলে মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নানা অনিয়মে জড়িয়েছেন।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আলিম মাদ্রাসায় “অধ্যক্ষ” হতে হলে আরবি বিষয়ে ১২ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। কিন্তু মো. লুৎফর রহমান ছিলেন “সাধারণ প্রভাষক”, যাঁর আরবি বিষয়ে অভিজ্ঞতা ছিল না। তিনি ২০০৫ সালে একটি হস্তলিখিত নিয়োগপত্রের মাধ্যমে সাধারণ প্রভাষক পদে যোগদান করেন, যা ২০০৮ সালের বেতন বিবরণীতেও প্রতিফলিত হয়।
এরপর ২০১৩ সালের জনবল কাঠামো অনুযায়ী অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগপ্রাপ্ত দেখিয়ে এমপিওভুক্ত হন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ইসলামি স্টাডিজে ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও আরবি বিষয়ের অভিজ্ঞতার তথ্য গোপন করেছেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে রয়েছে ভুয়া নিয়োগপত্র এবং সভাপতি ও গভর্নিং বডির স্বাক্ষর জাল করার মতো গুরুতর অভিযোগও।
অভিযোগকারীরা দাবি করেন, অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান ২০১৬ সালে মাদ্রাসা গভর্নিং বডির অনুমোদন নেয়ার সময় সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে কাগজপত্র জমা দেন। সাবেক সভাপতি মো. শাহজালাল ও প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের জ্যেষ্ঠ পুত্র মো. মহসিন উদ্দিন হাওলাদার জানান, ওই সময়ে অধ্যক্ষের শিক্ষাগত যোগ্যতা অধ্যক্ষ পদের জন্য প্রযোজ্য ছিল না।
উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে, যার স্মারক নম্বর ০৫.১০.০৬০৭.০০০.৩৩.০০২.২২.৫৬৭, তারিখ ১৩-০৬-২০২৪। প্রতিবেদন অনুযায়ী, লুৎফর রহমান প্রভাষক পদে কর্মরত থাকাকালীন অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০১৮ সালে অধ্যক্ষ হিসেবে এমপিওভুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রভাষক পদের বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন। অথচ, সেই একই সময় নিজেকে অধ্যক্ষ হিসেবে দাবি করেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে আলিম পর্যায়ের কোনো ছাত্র-ছাত্রী নেই, এমনকি নেই কোনো ক্লাস রুমও। চলতি ২০২৫ সালের আলিম পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির কোনো পরীক্ষার্থী ছিল না, তারপরও প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত এমপিওভুক্ত বেতন ভাতা পাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. লুৎফর রহমান বলেন, “আমি নিয়ম মেনেই নিয়োগ পেয়েছি। যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, ডিজি অফিস ব্যবস্থা নেবে।” তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্বীকার করেন যে, উপজেলা প্রশাসনের প্রতিবেদন যদি গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে তার চাকরি না-ও থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসনের প্রতিবেদন একপক্ষীয় এবং তিনি এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে, এ ধরনের অনিয়ম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা নষ্ট করবে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের নিয়োগ দুর্নীতির দ্বার খুলে দেবে।

