মোঃ রুহুল আমিন রাজু, মেলান্দহ (জামালপুর) প্রতিনিধি
জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার নাংলা ইউনিয়নে অবস্থিত ৩৫ নং নলকুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ কাজ দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি। এতে করে বিদ্যালয়ের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
সম্প্রতি বিদ্যালয়ের অসমাপ্ত নতুন ভবন পরিদর্শন করেন নাংলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব কিসমত পাশা। পরিদর্শনকালে তিনি নির্মাণ কাজের ধীরগতি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর কিছুদিন কাজ চললেও পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনের কাজ সম্পূর্ণ না করেই নির্মাণাধীন অবস্থায় ফেলে রেখে চলে গেছে। বর্তমানে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রতিনিধির খোঁজও পাওয়া যাচ্ছে না। এলাকাবাসীর অভিযোগ, “ঠিকাদার পালিয়ে গেছে, এখন আর তাদের কোনো লোকজন কিংবা পাহারাদারও এখানে আসে না।”
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নির্মাণ সামগ্রীর মধ্যে কিছু পাথর ও মালামাল অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় ভবনের বিভিন্ন অংশেও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানান, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে পাঠদান করতে হচ্ছে। অনেক সময় ঠিকমতো বসার ব্যবস্থাও থাকে না। এতে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ছোট ছোট কোমলমতি শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ কাজ বছরের পর বছর ঝুলে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাব এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বহীনতার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসী দ্রুত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, নির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে ভবনের কাজ সম্পন্ন করার জন্য উপজেলা প্রশাসন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

