উত্তম শর্মা, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করে মেয়ে সুবর্ণা রায়ের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের বাবা শ্রী বীররঞ্জন সরকার।
সোমবার (১১ মে) দুপুর ১২টার দিকে বীরগঞ্জে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, উপজেলার সুজালপুর কুমারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তার মেয়ে সুবর্ণা রায়ের প্রায় ২০ বছর আগে একই ইউনিয়নের জগদল ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের পল্লী চিকিৎসক রাজকুমার রায়ের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে তার মেয়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে জমি ক্রয়কে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই সময় রাজকুমার রায়ের নামে সাময়িকভাবে জমি রেজিস্ট্রি করা হলেও পরে তা ফেরত না দিয়ে উল্টো বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ বাড়তে থাকে এবং সুবর্ণা রায়ের ওপর নির্যাতনের মাত্রাও বৃদ্ধি পায় বলে দাবি পরিবারের।
লিখিত বক্তব্যে বীররঞ্জন সরকার অভিযোগ করেন, গত ৮ মে সন্ধ্যায় তার মেয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে না নিয়ে স্বামী রাজকুমার রায় নিজেই ইনজেকশন প্রয়োগ করেন। এরপর ঘটনাস্থলেই সুবর্ণা রায়ের মৃত্যু হয় বলে দাবি করা হয়। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তাকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে পুনরায় বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
খবর পেয়ে বীরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাওন সরকার ও বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবার সুবর্ণা রায়ের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান।

