দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ‘পীর’ শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমান হত্যা মামলার এক মাস পার হলেও মামলার প্রধান আসামিসহ এজাহারভুক্ত আরও তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একইসঙ্গে দরবার থেকে লুট হওয়া মালামালও এখনো উদ্ধার হয়নি।
তবে পুলিশের দাবি, তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গ্রেপ্তার আসামিদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার প্রধান আসামি ইসলামী ছাত্র শিবির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য খাজা আহম্মেদ (৩৬) উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিনে রয়েছেন বলে জানা গেলেও পুলিশের কাছে এ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই।
এছাড়া এজাহারভুক্ত আরও দুই আসামি—বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ দৌলতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৮) এবং সিহাব (সাফি) (৪৫) এখনও পলাতক রয়েছেন।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল রাতে মামলার ৩ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি রাজিব মিস্ত্রি ওরফে কিলার রাজিবকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকা থেকে র্যাব গ্রেপ্তার করে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আরও তিনজনকে আটক করা হয়। তারা হলেন—স্কুলছাত্র আলমগীর হোসেন (১৬), বিপ্লব হোসেন (২৬) এবং আলিফ ইসলাম (২৩)।
পুলিশ জানায়, বিপ্লব ও আলিফকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্কুলছাত্র আলমগীর বর্তমানে কিশোর সংশোধনাগারে রয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা বলেন, “মামলার তদন্তে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদ উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন—এমন কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।”
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে এখনও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল দুপুরে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে পীর শামীম জাহাঙ্গীরের আস্তানায় হামলা চালায় শতাধিক বিক্ষুব্ধ মানুষ। এসময় হামলাকারীরা তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। পরে দরবারে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
ঘটনার তিন দিন পর ১৩ এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

