নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত মো. শাহাদাৎ হোসেনের বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষানুরাগীরা অভিযোগ করেন, নিয়মিত পরিদর্শনের আড়ালে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ দাবি করছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পরিদর্শনের আগের দিন তার গাড়িচালক মো. এজাজ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফোন করে জানান, “ডিইও স্যার” পরদিন তার প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনে যাবেন এবং স্যারের জন্য ২ থেকে ৩ হাজার টাকা সম্মানী হিসেবে প্রস্তুত রাখতে হবে। এছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে কিংবা কোনো শিক্ষক দেরিতে উপস্থিত হলে তাদের জেলা শিক্ষা অফিসে গিয়ে দেখা করতে বলা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কোনো প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে তিনি তদন্ত না করে কালক্ষেপণ করেন। একপর্যায়ে সেই অভিযোগ ধামাচাপা পড়ে যায়। এতে অভিযুক্তদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার রাস্তা সহজ হয়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, কিছু প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার আগে তার পছন্দের খাবারের তালিকা জানিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেই অনুযায়ী আপ্যায়নের ব্যবস্থা করতে হয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে। এছাড়া তাকে এবং তার ড্রাইভারকে টাকা দিতে হয়। আমাদের ইচ্ছা না থাকলেও এক প্রকার বাধ্য হয়েই এই টাকা দিতে হচ্ছে।
স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের দাবি, রাজশাহী শিক্ষা অফিসের আঞ্চলিক শিক্ষা কর্মকর্তা তার বিয়াই হওয়ায় সেই প্রভাব খাটিয়ে তিনি এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে কেউ ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। এ ঘটনায় শিক্ষক সমাজ ও সচেতন মহলের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত মো. শাহাদাৎ হোসেনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগগুলো সত্য নয়। আমি কারও কাছ থেকে টাকা নিইনি। তবে আমার ড্রাইভার টাকা নিতে পারে। আমি তাকে নিষেধ করে দেবো।

