বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশু প্রস্তুত করতে শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় গরুর খামারিরা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামাঞ্চলের ছোট-বড় প্রায় ১৫৮টি খামারে চলছে কোরবানির পশু গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া মোটাতাজাকরণ ও পরিচর্যার কাজ।
বাজারে খাদ্য, ভূষি ওষুধের দাম ঊর্ধ্বগতির মধ্যেও আশার আলো দেখছেন স্থানীয় খামারিরা। এছাড়া এ উপজেলাটি ভারতীয় সীমান্তবর্তী হওয়ায় অবৈধভাবে গরু প্রবেশ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় খামারিরা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় কোরবানির চাহিদা প্রায় ১ হাজার ৬৩১টি পশুর বিপরীতে চলতি বছর বকশীগঞ্জ উপজেলায় ছোট-বড় ১৫৮টি খামারে প্রায় ১ হাজার ৮৪৬টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত করা হয়েছে, যা চাহিদার চেয়ে প্রায় ২১৫টি পশু বেশি। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন হাটেও এসব গরু বিক্রির আশা করছেন খামারিরা।
খামারিরা জানান, কয়েক মাস ধরে উন্নত খাবার, নিয়মিত পরিচর্যা ও চিকিৎসা সেবা দিয়ে গরুগুলো লালন-পালন করা হচ্ছে। কেউ কেউ দেশীয় পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক খাবার ব্যবহার করে গরু মোটাতাজা করছেন। তবে খাদ্য ওষুধের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
উপজেলার একাধিক খামারি বলেন, “আমরা অনেক আশা নিয়ে গরু পালন করছি। বাজারে ভালো দাম পেলে খরচ উঠার পাশাপাশি কিছু লাভ হবে। সরকারিভাবে যদি আরও সহযোগিতা পাওয়া যায় তাহলে খামার সম্প্রসারণ করা সম্ভব।”
কে. আর. এইচ ডেইরি অ্যান্ড এগ্রো ফার্মের মালিক মো. মোরশেদ আলম বলেন, এবছর আমার এই খামারে প্রায় ১০টি গরু রয়েছে, এর মধ্যে ৫০টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। আশা করি অবৈধভাবে ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ না করলে ভালো দাম পাওয়া যাবে। নইলে খাদ্য, ভূষি ওষুধের যে দাম, আসল টাকা তোলাই যাবে না।
বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া আফরিন বলেন, “এ উপজেলায় কোরবানির চাহিদার চেয়ে বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া মিলে প্রায় ১ হাজার ৮৪৬টি পশু প্রস্তুত রয়েছে, যা চাহিদার চেয়ে বেশি। খামারিদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। পশুর বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে টিকাদান, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।” নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু মোটাতাজাকরণে খামারিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

