স্টাফ রিপোর্টার, চিতলমারী
বাগেরহাটের চিতলমারীতে প্রচণ্ড গরমে অস্থির হয়ে উঠেছে জনজীবন। তীব্র তাপদাহের কারণে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। এতে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও স্থানীয় ক্লিনিকগুলোতে রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। পাশাপাশি হিটস্ট্রোকে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, তাপমাত্রা দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, হামের সন্দেহে উপজেলার বারাশিয়া গ্রামের আঃ মোতালেব (৪) ও উম্মে হুমাইরা (৩) নামে আপন দুই ভাই-বোন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এছাড়া শিবপুর গ্রামের আবু সুফিয়ান (১০ মাস), চৌদ্দহাজারী গ্রামের তাসকিন (২২ মাস), শ্রীরামপুর গ্রামের শিয়ান শেখ (৭ মাস), আড়ুয়াবর্ণী গ্রামের সুমাইয়া (৩)সহ আরও ৭ শিশু ভর্তি রয়েছে।
এদিকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বড়বাড়িয়া গ্রামের মিরাজুল ইসলাম (১১), শান্তিপুর গ্রামের রেখা বিশ্বাস (৪৫), আড়ুলিয়া গ্রামের জোনায়েদ (৯), মাঠিভাঙ্গা গ্রামের সিরাজ শেখ (৬৫), মান্দ্রা গ্রামের নাঈম হোসেন (৪৫) ও ভোটেশ্বর গ্রামের ইলা রানী (৩৫)সহ অন্তত ১৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
পাশাপাশি হিটস্ট্রোকে ১৫ ছাত্রী অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে অনেকে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট থাকায় পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বাড়ছে এবং চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে রোগীর ভিড়ও বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শর্মী রায় বলেন, “এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। এছাড়া প্রচণ্ড গরমের কারণে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগসহ ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। হামের সন্দেহে ভর্তি হওয়া শিশুদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ডায়রিয়ার স্যালাইন মজুত রয়েছে এবং রোগীদের চিকিৎসায় সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।”

