নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. মমিনুল হক (২৬) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার বাদাল চাঁনপুর এলাকার একটি কওমী মাদ্রাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে স্থানীয়রা তাকে আটক করে রাখে।
ঘটনাটি উপজেলার বাদাল (চাঁনপুর) দারুল উলুম আশরাফিয়া থানভিয়া কওমী হাফেজিয়া মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে ঘটে। গ্রেপ্তারকৃত মমিনুল হক জেলার পত্নীতলা উপজেলার বরইল গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ৮টার দিকে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের এশার নামাজ আদায়ের জন্য পাশের মসজিদে পাঠিয়ে দেন শিক্ষক মমিনুল হক। পরে প্রয়োজনীয় কথা আছে বলে ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে মাদ্রাসার উত্তর পাশের একটি কক্ষে রেখে দেন। অন্য শিক্ষার্থীরা নামাজে গেলে সেই সুযোগে ভয়ভীতি দেখিয়ে শিশুটির ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে ধামইরহাট থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। একই সঙ্গে নির্যাতনের শিকার শিশুটিকেও উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় মাদ্রাসার সভাপতি বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধামইরহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিন্টু রহমান বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত চলমান রয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

