মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
ঘুষ গ্রহণকারী সেই মিজানের শেষ রক্ষা হলো না- স্বাস্থ্য মন্ত্রী নির্দেশে নিজেকে আর রক্ষা করতে পারলেন না দুর্নীতি ও অনিয়ম সিন্ডিকেটের মূল হোতা মিজানুর রহমান। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের তদবির ছাড়াও নানা কৌশল অবলম্বন করেও শেষ রক্ষা হলো না সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্টেনোটাইপিস্ট মো মিজানুর রহমানের।
শুক্রবার স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে স্টেনোটাইপিস্ট মো মিজানুর রহমান সহ মুন্সীগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের আরোও দুই মহারথী সিভিল সার্জন ও জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধাকে প্রত্যাহার করেন।
জানা যায়, গত ১১ ই মার্চ “বাংলাদেশ প্রতিদিন” পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া বিভাগে ভিডিও ও পরের দিন স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন পত্রিকায় স্টেনোটাইপিস্ট মো মিজানুর রহমানের ঘুষ গ্রহণের ছবিসহ সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদ প্রকাশের পর মিজানুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রত্রিকার মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ ও মুন্সীগঞ্জ সময় পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মইনউদ্দিন সুমনের বিরুদ্ধে মানহানি ও চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে। পরে এ নিয়ে জেলা জুড়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে এবং ৭ দিনের আলটিমেটাম দেন জেলার সাংবাদিকগণ।
পরে স্টেনোটাইপিস্ট মো মিজানুর রহমান স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন মাধ্যমে সাংবাদিকদের সমঝোতা করার প্রস্তাব দেন। অবশেষে শুক্রবার মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মো সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রী স্টেনোটাইপিস্ট মো মিজানুর রহমানের ঘুষ গ্রহণ, দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে তাকে প্রত্যাহার করেন।
মো: মিজানুর রহমানের প্রত্যাহারে খবরে স্বস্তি ফিরেছে জেলার সাংবাদিক মহলে। এছাড়াও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে থাকা সিন্ডিকেট সদস্যদের মুখোশ উন্মোচনের দাবী তুলেছে মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মীরা। সেইসাথে মুন্সীগঞ্জ সচেতন মহলের দাবী স্টেনোটাইপিস্ট মো মিজানুর রহমানের অবৈধ সম্পদের বিষয়ে ও তদন্ত করা জরুরি।

