টুঙ্গিপাড়া গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় এক প্রধান শিক্ষকের আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত বিদ্যুৎ কান্তি রায় (৫৬) উপজেলার পাটগাতি মুন্সিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি টুঙ্গিপাড়ার দাড়িয়ারকুল গ্রামের গঙ্গা প্রসাদ রায় ও হেমলতা রায়ের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার গভীর রাতে প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার খেয়ে ঘুমাতে যান বিদ্যুৎ কান্তি রায়। রাতের কোনো এক সময় তিনি বিছানা থেকে উঠে বাইরে যান। পরে ভোরে পরিবারের সদস্যরা তার পিতা-মাতার সমাধির পাশের একটি কামরাঙা গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান।
আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর ধারণা, দীর্ঘদিনের ঋণের চাপ ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তিনি এ চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতকারী টুঙ্গিপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোসলেম আলী বলেন, “নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রয়োজন।”
নিহতের স্ত্রী দীপা রায় বলেন, “গভীর রাতে কখন তিনি আমার পাশ থেকে উঠে বাইরে গেছেন, আমি টের পাইনি। ঋণের বিষয়েও তিনি আমাকে কখনো কিছু বলেননি।”
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুর রহমান বলেন, “বিদ্যুৎ কান্তি রায়ের মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন। তবে তার আর্থিক দেনা ছিল বলে এখন শুনতে পাচ্ছি।”
টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে জনপ্রিয় এই শিক্ষকের আকস্মিক মৃত্যুতে শিক্ষক সমাজ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও স্থানীয় সুধীজনের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। তার মৃত্যুতে বিভিন্ন মহল শোক প্রকাশ করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

