নওগাঁ প্রতিনিধি
হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দায়ের করে শেষ পর্যন্ত কারাগারে যেতে হয়েছে শরিফুল ইসলাম ভুট্টো নামে এক ব্যক্তিকে। পুলিশের তদন্তে মামলাটি সাজানো ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হওয়ার পর আদালতের জেরার মুখে তিনি নিজেই অভিযোগ মিথ্যা বলে স্বীকার করেন। পরে আদালত তাকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
বুধবার নওগাঁর অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-ইমরান এ আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত শরিফুল ইসলাম ভুট্টো নওগাঁ সদর উপজেলার চকগোয়ালী গ্রামের মৃত আহাদ আলী সরদারের ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, শরিফুল ইসলাম ভুট্টো একই গ্রামের চারজনকে আসামি করে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩৪২, ৩২৩, ৩৭৯ ও ৫০৬(২)/৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আদালত জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
তদন্তে ডিবি পুলিশ জানতে পারে, বিবাদীদের সঙ্গে বাদীর পূর্বশত্রুতা রয়েছে এবং তাদের হয়রানির উদ্দেশ্যেই মনগড়া ও মিথ্যা অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। এ বিষয়ে ডিবি পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।
তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারা অনুযায়ী বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এ সময় তার বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়লে বিচারক বিষয়টি গভীরভাবে যাচাই করতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে আদালতের জেরার মুখে শরিফুল ইসলাম স্বীকার করেন যে, তার দায়ের করা মামলাটি সম্পূর্ণ সাজানো ও মিথ্যা ছিল।
আদালতের এপিপি রফিকুল ইসলাম জানান, মিথ্যা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আদালত তাৎক্ষণিকভাবে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় বাদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। শরিফুল ইসলাম নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
পরে আদালত তাকে সাত দিনের সশ্রম কারাদণ্ড, এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। একই সঙ্গে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

