কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় মরিয়ম আক্তার (৩২) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে যুক্ত করুন) রাতে উপজেলার পাথৈর ইউনিয়নের হাটমুড়া গ্রামের প্রধানীয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী আলমগীর হোসেন পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগে শাহীনুর আক্তারকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।
নিহত মরিয়ম আক্তার কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মুটুকি গ্রামের মো. দ্বীনেস মিয়ার মেয়ে। অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন হাটমুড়া গ্রামের মো. সিরাজ মিয়ার ছেলে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৮ বছর আগে পারিবারিকভাবে মরিয়ম ও আলমগীরের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, গত প্রায় দুই বছর ধরে আলমগীর একই বাড়ির চাচাতো ভাই প্রবাসী হুমায়ুনের স্ত্রী শাহীন আক্তারের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। প্রতিবাদ করায় আলমগীর প্রায়ই মরিয়মকে মারধর করতেন বলে পরিবারের দাবি।
পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে আলমগীর মরিয়মকে বেধড়ক মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে জ্ঞান হারান। পরে তাকে সাচারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম ও শাশুড়ি হোসনেয়ারা জানান, এর আগেও আলমগীর একাধিকবার মরিয়মকে মারধর করেছেন। বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা সালিশ বৈঠকও হয়েছে। তাদের দাবি, মরিয়মের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন পালিয়ে যান। তাকে না পেয়ে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা শাহীনুর আক্তারকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম জানান, গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

