পিরোজপুর প্রতিনিধি
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শহীদ জিয়া কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কলেজটির গভর্নিং বডির কয়েকজন সদস্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনের মাধ্যমে সহকারী অধ্যাপক (আইসিটি) মোমেনা খানমকে শহীদ জিয়া কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে কলেজের গভর্নিং বডির সভায় তিনজন শিক্ষকের একটি প্যানেল তৈরি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। ওই প্যানেল থেকে মোমেনা খানমকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার অনুমোদন দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগকারীদের দাবি, মোমেনা খানমের দায়িত্ব পালনের ছয় মাসের মাথায় কলেজের গভর্নিং বডির সঙ্গে কোনো সভা বা রেজুলেশন না করে এবং সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই পূর্বের শিক্ষক প্যানেলের কাগজপত্র ব্যবহার করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। পরে গত ৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ১৪৫০০ নম্বর স্মারকে মো. সিদ্দিকুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এদিকে মোমেনা খানমের দায়িত্বের মেয়াদ বাড়ানোর দাবিতে কলেজের বিদ্যোৎসাহী সদস্য (ভিসি মনোনীত) এবং ছয়জন অভিভাবক সদস্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
অভিযোগকারীরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের চাকরির শর্তাবলি রেগুলেশন (সংশোধিত) ২০১৯-এর ৪(২) ধারা উল্লেখ করে বলেন, কোনো কলেজের অধ্যক্ষের পদ শূন্য হলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রে উপাধ্যক্ষ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিষয়সমূহের মধ্য থেকে ১০ জন জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের তালিকা তৈরি করে গভর্নিং বডির প্রস্তাবক্রমে তিনজনের একটি প্যানেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাবেন। পরে ভাইস চ্যান্সেলর কলেজের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে প্যানেলভুক্ত তিনজনের মধ্য থেকে একজনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে অনুমোদন দেবেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গত ২২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে শহীদ জিয়া কলেজের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুজিবর রহমান বালী স্বাক্ষরিত তিনজন শিক্ষকের একটি প্যানেল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের কাছে পাঠানো হয়। পরে ৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত ভাইস চ্যান্সেলরের অনুমোদিত ১১১১১ নম্বর স্মারকে মোমেনা খানমকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
দায়িত্ব প্রদানের চিঠি পাওয়ার পর কলেজের গভর্নিং বডি সভা করে রেজুলেশনের মাধ্যমে মোমেনা খানমের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে। তবে ছয় মাসের মধ্যে নতুন করে সিদ্দিকুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়ায় গভর্নিং বডির সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
কলেজের গভর্নিং বডির বিদ্যোৎসাহী সদস্য মো. নাজমুল হুদা বলেন, “ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে সিদ্দিকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে আমরা অবগত নই। এ ব্যাপারে কলেজ গভর্নিং বডির কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়নি এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো নতুন শিক্ষক প্যানেলও পাঠানো হয়নি।”
নির্বাচিত ছাত্র অভিভাবক সদস্য মাহবুব খান বলেন, “এই কলেজে আমরা জায়গা দিয়েছি। আমি নির্বাচিত ছাত্র অভিভাবক, অথচ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের ব্যাপারে কিছুই জানি না। এ বিষয়ে আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযোগ জানিয়েছি। আশা করি, সুষ্ঠু সমাধান পাব।”
এ বিষয়ে সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোমেনা খানম বলেন, “আমি আইসিটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। ভাইস চ্যান্সেলর মহোদয় আমাকে যোগ্য মনে করে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো শোকজ না করে কী কারণে আমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা জানি না। আমি দায়িত্ব পালনকালে দীর্ঘদিনের বৈষম্যের শিকার কলেজটিকে স্বমহিমায় ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করেছি। কলেজটির নাম পরিবর্তন করে নাজিরপুর কলেজ করা হয়েছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর কলেজটি তার পুরনো নাম শহীদ জিয়া কলেজে ফিরিয়ে এনেছি। এছাড়া কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বরাদ্দ এনেছি। আমি চক্রান্তের শিকার। বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানাই।”
অভিযোগের বিষয়ে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আমি কাউকে সাজেস্ট করিনি। প্রথম নিয়োগের সময় যে রেজুলেশন করা হয়েছিল, তখন তিনজনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। সেখান থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মোমেনা খানমকে বাদ দিয়ে মো. সিদ্দিকুর রহমানকে নিয়োগ দিয়েছে।”
তবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে গভর্নিং বডির সদস্যরা সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

