শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে গেছে চিত্রা নদী। নদটির দুই পাড়ে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠেছে সুন্দরবনের গাছপালা। সবুজ গাছপালা ও পাখির কলতানে মুখরিত এলাকাটিতে সৃষ্টি হয়েছে মনোরম পরিবেশ। তবে এখানে নির্মিত ইকোপার্কটি বর্তমানে আগাছায় ঘিরে গেছে। এতে দর্শনার্থীদের ভ্রমণের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। পার্কটি পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা।
স্থানীয়রা জানান, ২০১৫ সালে স্থানীয় সংবাদকর্মী পঙ্কজ মণ্ডল গণমাধ্যমে এ বনটির বৈচিত্র্য ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। এর ভিত্তিতে ২০১৭ সালে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড বনটি সংরক্ষণ এবং একটি ইকোপার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চিত্রা নদীর পাড়ে গোদাড়া স্লুইসগেটসংলগ্ন এলাকায় ইকোপার্কের আদলে একটি পার্ক নির্মাণ করা হয়।
বর্তমানে অযত্ন-অবহেলায় পার্কটি আগাছায় ঘিরে গেছে। সাপ ও বন্য প্রাণীর ভয়ে অনেকে পার্কে প্রবেশ করতে ভয় পাচ্ছেন। এ অবস্থায় পার্কটি আগাছামুক্ত করে ভ্রমণের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা।
স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমী বাবলু মণ্ডল বলেন, লোকালয়ে এ ধরনের বন খুব একটা দেখা যায় না। শিশুদের নিয়ে নির্বিঘ্নে ঘোরাঘুরির জন্য এটি দারুণ একটি জায়গা। এখানকার জীববৈচিত্র্য ও বনাঞ্চল রক্ষার পাশাপাশি পার্কটি আগাছামুক্ত করা হলে মানুষ সুন্দরভাবে মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতে পারবে। তিনি জরুরি ভিত্তিতে পার্কটি পরিষ্কার করার দাবি জানান।
চিত্রা নদীর পাড়ের দর্শনার্থী শেখ মো. শামসুদ্দোহা বাঙালি বলেন, চিত্রা নদীর পাড়ের মিনি সুন্দরবন এলাকাটি ভ্রমণের জন্য অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। এখানকার পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর এগিয়ে আসা উচিত। এ স্থানটি সম্ভাবনাময় আয়ের উৎস হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন, চিত্রা নদীর পাড়ের মিনি সুন্দরবনের ইকোপার্কটি আগাছামুক্ত করে সুন্দর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এটি পরিষ্কার করা যায় কি না, সে বিষয়টিও তিনি বিবেচনা করছেন।
বাগেরহাট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত পাল বলেন, এই মুহূর্তে তাঁদের কোনো বাজেট নেই। তবে পার্কটি আগাছামুক্ত করার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

