লিয়াকত আলী খান, নোয়াখালী প্রতিনিধি
ভরা মৌসুম হলেও নোয়াখালীর বাজারে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশের দেখা মিলছে না। সরবরাহ কম থাকায় প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ থেকে ৩ হাজার টাকায়, ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে রুপালি এ মাছ।
হাতিয়া উপজেলার চেয়ারম্যানঘাট—যা ইলিশের অন্যতম বড় অবতরণ কেন্দ্র—সেখানে প্রতিদিন ভোরে জেলেদের নৌকা ভিড়লেও আগের মতো ইলিশে ভরা ঝুড়ির দৃশ্য এখন অনেকটাই অনুপস্থিত। আড়তে কমেছে সরবরাহ, আর বাজারে বেড়েছে দাম।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে জাটকা ও ছোট মাছ ধরার কারণে নদীতে ইলিশের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। এতে বড় ইলিশের সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং জেলে, ব্যবসায়ী ও ক্রেতা—সবাই ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ অর্থবছরে ইলিশ আহরণের পরিমাণ ছিল—
| অর্থবছর | আহরণ (মেট্রিক টন) |
| ——- | —————– |
| ২০২০–২১ | ২২,৬২১ |
| ২০২১–২২ | ২২,১৯১ |
| ২০২২–২৩ | ২২,৭৫১ |
| ২০২৩–২৪ | ১৮,৫৬৪ |
| ২০২৪–২৫ | ২৩,২৫৬ |
ক্রেতারা জানান, চড়া দামের কারণে অনেকেই ইলিশ কিনতে এসে খালি হাতে ফিরছেন। কেউ ছোট আকারের ইলিশ কিনছেন, আবার কেউ বিকল্প মাছ বেছে নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ ইলিশ শিকার করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

