জাবিপ্রবি প্রতিনিধি
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) বিজয়-২৪ হলে আসন বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হলটিতে প্রায় ৩০টি আসন খালি থাকলেও নিয়ম অনুযায়ী সেগুলো বরাদ্দ না দিয়ে পরিচিতি ও সিনিয়র শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আসনে উঠছেন বলে অভিযোগ করেছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
হল প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারিকৃত নোটিশে বৈধ আসন বরাদ্দের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হয়। পরে ৯ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত নোটিশে মোট ১৩২টি আসনের বিপরীতে বৈধ শিক্ষার্থীদের তালিকার পাশাপাশি নতুন করে ১৮টি আসন বরাদ্দ দেওয়ার কথা জানানো হয়।
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী হল ছেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে বিজয়-২৪ হলে প্রায় ৩০টি আসন খালি রয়েছে। এসব আসন নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দ না হওয়ায় আবেদন করেও অনেক শিক্ষার্থী আসন পাচ্ছেন না। অন্যদিকে পরিচিতি ও সিনিয়রদের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে কেউ কেউ খালি আসনে উঠছেন এবং নিজেদের ইচ্ছামতো আসন পরিবর্তন করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে গত ৩০ আগস্ট হল প্রশাসনের জারি করা এক নোটিশে বলা হয়, হল কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীকে আসন বরাদ্দ, হলের কক্ষে অবস্থান কিংবা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
ফিসারিজ বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. রিসাদ মাহমুদ বলেন, “বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমি একজন সাধারণ শিক্ষার্থী। প্রায় এক বছর আগে হলে একটি আসনের জন্য আবেদন করেছিলাম। আমার পারিবারিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় হলে থাকার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু হলে আসন থাকা সত্ত্বেও আমি আমার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। শুনেছি, দলীয় পরিচয়ধারী কিছু বড় ভাই তাদের পরিচিত জুনিয়রদের হলে আসন দিচ্ছেন। প্রশাসনের কাছে জানতে চাই, হলে সিট থাকা সত্ত্বেও আবেদন করেও কেন আমি আসন পাচ্ছি না।”
ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে হলে আবেদন করেছি, কিন্তু এখনো সিট পাচ্ছি না। অথচ বিভিন্ন পরিচয় ও দলীয় পরিচয়ের মাধ্যমে অনেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে হলে উঠছেন। বিষয়টি নিয়ে হল প্রশাসন এতদিন কোনো সুরাহা করেনি। আমরা প্রশাসনের কাছে একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত আসন বরাদ্দের দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি অবৈধভাবে আসনে ওঠার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”
অভিযোগের বিষয়ে বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট ড. ফরহাদ আলী বলেন, “আমরা এসব বিষয় জানতে পেরেছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসব। সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বাকি ফাঁকা আসনগুলোতে খুব শিগগিরই আসন বরাদ্দ দেওয়া হবে।”
শিক্ষার্থীদের দাবি, খালি আসনের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করে আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার ও বৈধতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আসন বরাদ্দ করা হোক। পাশাপাশি অনুমোদন ছাড়া হলে ওঠা এবং আসন পরিবর্তনের অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

