টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় এক গৃহবধূকে গনধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার পাটগাতী মধ্যপাড়া থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, পাটগাতী মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত রুঙ্গু শেখের ছেলে আকবর শেখ (৩৫) ও একই গ্রামের মৃত সাদেক আলী কাজীর ছেলে সোহাগ কাজী (৩৬)।
গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের মধ্যপাড়া খানকা মাদ্রাসা এলাকায় এ গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে ১০ সেপ্টেম্বর গনধর্ষণের শিকার গৃহবধূর পিতা বাদী হয়ে টুঙ্গিপাড়া থানায় মামলা করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার দুই যুবক সহ অজ্ঞাত আরো দুইজনকে আসামি করা হয়েছে।
এতথ্য নিশ্চিত করেছেন টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত ২০ আগস্ট গৃহবধূর স্বামী টুঙ্গিপাড়া থেকে কৃষি কাজের জন্য অন্য জেলায় যায়। সেই সুযোগে গত ৮ সেপ্টেম্বর রাত ২ টার দিকে সিধ কেটে ঘরে প্রবেশ করে ৪ ব্যক্তি। তখন সন্তানদের মুখ চেপে রেখে গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তারা। গৃহবধূ বাঁচার জন্য এক নম্বর আসামি আকবর শেখের ডান আঙ্গুল কামড়ে দিয়ে ছোটার চেষ্টা করলে সে মুখে ঘুষি দিয়ে তিনটি দাত ভেঙে ফেলে। একপর্যায়ে ছেলে মেয়েদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসলে ধর্ষণকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা গৃহবধূকে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূ বলেন, স্বামী এলাকার বাইরে থাকায় তিন ছেলে মেয়েকে নিয়ে ঘরে ঘুমিয়ে ছিলাম। গভীর রাতে চার ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করে আমাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। তখন আকবর ও সোহাগকে চিনতে পারলেও বাকি দুজনকে চিনতে পারিনি। তাদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাই।
তবে এঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বাড়িতে গেলে তাদের পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি।
ওসি আইয়ুব আলী বলেন, এঘটনায় গৃহবধুর পিতা বাদী হয়ে মামলা করার পর পুলিশ আকবর ও সোহাগকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

