জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে একটি রেস্তোরাঁয় নাশতা করতে গিয়ে পাঁচ লাখ টাকা ভর্তি ব্যাগ হারানোর অভিযোগ করেছেন এক ব্যবসায়ী। তাঁর দাবি, নাশতা শেষে পাশের চায়ের দোকানে যাওয়ার মাত্র এক মিনিটের মধ্যে চেয়ারে রাখা টাকার ব্যাগটি উধাও হয়ে যায়। এ ঘটনায় রেস্তোরাঁর ক্যাশিয়ারসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদের সামনে এস এম হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রেস্তোরাঁর সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. লিটন হোসেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ট্রাকে করে নওগাঁর ধামইরহাটে ধান কিনতে যাচ্ছিলেন। পথে আক্কেলপুরে ট্রাক থামিয়ে চালক আলম হোসেনের সঙ্গে এস এম হোটেলে নাশতা করতে যান। তাঁর কাছে ধান কেনার জন্য পাঁচ লাখ টাকা ছিল বলে জানান তিনি।
লিটন হোসেন বলেন, নাশতার সময় টাকার ব্যাগটি পাশের একটি চেয়ারে রেখেছিলেন। নাশতা শেষে হাত ধুয়ে ক্যাশিয়ারের কাছে বিল পরিশোধ করে পাশের চায়ের দোকানে যান। সেখানে যাওয়ার পরপরই টাকার ব্যাগের কথা মনে পড়ে। দ্রুত রেস্তোরাঁয় ফিরে এসে দেখেন, চেয়ারে রাখা ব্যাগটি নেই। এ সময় ক্যাশিয়ারকেও সেখানে পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও দাবি করেন, চায়ের দোকানে যাওয়ার এক মিনিটের মধ্যেই ব্যাগটি উধাও হয়। ওই সময় বাইরে থেকে কেউ রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করেননি বলেও দাবি তাঁর। পরে রেস্তোরাঁর লোকজনের কাছে ব্যাগটি ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করলেও কেউ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেননি। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
ট্রাকচালক আলম হোসেন বলেন, তাঁর নাশতা আগে শেষ হওয়ায় তিনি রেস্তোরাঁর পাশের চায়ের দোকানে গিয়ে বসেন। কিছুক্ষণ পর লিটন সেখানে এসে চায়ের অর্ডার করেন। তখন তিনি লিটনকে টাকার ব্যাগের কথা জিজ্ঞাসা করলে বিষয়টি তাঁর মনে পড়ে এবং তিনি দ্রুত রেস্তোরাঁয় ফিরে যান।
ঘটনার পর আক্কেলপুর থানার পুলিশ রেস্তোরাঁয় গিয়ে ক্যাশিয়ার মাহফুজা খাতুন (৫০), তাঁর ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩২) এবং দুই কর্মচারী মিন্টু (৪০) ও আবিদকে (৩০) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়।
রেস্তোরাঁর মালিক সোলাইমান আলী বলেন, শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় সাধারণত খদ্দের কম থাকে। তবে সকালে নাশতার সময় কিছুটা ভিড় ছিল। তিনি তাঁর স্ত্রীকে ক্যাশে রেখে বাজারে গিয়েছিলেন। পরে রেস্তোরাঁয় ফিরে পুলিশকে দেখতে পান। রেস্তোরাঁর কেউ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেননি। বাসা ও রেস্তোরাঁর বিভিন্ন স্থানেও খোঁজ করা হয়েছে, তবে টাকা পাওয়া যায়নি। রেস্তোরাঁয় কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা নেই বলেও জানান তিনি।
আক্কেলপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বজলুর রশিদ বলেন, পুলিশ রেস্তোরাঁয় গিয়ে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তাঁদের কথাবার্তায় কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে। তবে কেউ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেননি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

