বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বাবুগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসা. আমেনার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীরা বরিশাল জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের মেরামত বরাদ্দের আওতায় ৬১ হাজার টাকার রঙ ও ৫৯ হাজার টাকার চেয়ার-টেবিল কেনার কথা দেখানো হলেও বাস্তবে তা বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা হয়নি। এতে প্রায় ২ লাখ টাকার সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।
এছাড়াও শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দ স্যানিটেশন সামগ্রী না দিয়ে, নিজ খরচে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীরা আরও জানান, মোসা. আমেনা সহকর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও কর্তৃত্বপরায়ণ মনোভাব দেখিয়ে থাকেন। সহকারী শিক্ষক ও কর্মচারীদের নিয়মিত অপমানজনক ভাষায় তিরস্কার করা হয়, যা বিদ্যালয়ের পরিবেশকে বিষিয়ে তুলছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থানীয় প্রভাবশালী একটি রাজনৈতিক মহলের সহযোগিতায় অতীতে নানা অনিয়ম ও সুবিধা আদায় করেছেন তিনি, যার ফলে বিদ্যালয়ে একটি অস্বচ্ছ ও ভয়ভীতিকর প্রশাসনিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এই বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকা মোসা. আমেনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করলেও অর্থ আত্মসাতের প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকা বলেন, “বিদ্যালয়ের পরিবেশ বর্তমানে শিক্ষার জন্য অনুকূল নয়, কারণ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।” সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, “বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বের হয়ে আসবে।”
বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আল এমরান খন্দকার বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বিদ্যালয়ের একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেন, “একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম যদি এমন অনিয়মে নষ্ট হয়, তাহলে তা পুরো শিক্ষাব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দ্রুত তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

