আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে বঙ্গোপসাগরে ইলিশ শিকারে গিয়ে বরগুনার তালতলী উপজেলার দুটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় ১৮ জন জেলের মধ্যে ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও কালাম পাইক ও শহীদুল খান নামে দুই জেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বুধবার পর্যন্ত প্রায় ১৮ ঘণ্টা পার হলেও নিখোঁজ দুই জেলের সন্ধান মেলেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তালতলী উপজেলার মধ্য আমখোলা গ্রামের তপন জোমাদ্দার ও ফুল মিয়ার মালিকানাধীন দুটি ট্রলার মঙ্গলবার সকালে ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ ঘাট থেকে ইলিশ শিকারের উদ্দেশ্যে সাগরে যায়। বিকেলে বৈরি আবহাওয়ার মধ্যে ট্রলার দুটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
পরে মৌডুবির একটি মাছ ধরার ট্রলার বুধবার সকালে সাগর থেকে ১৬ জন জেলেকে উদ্ধার করে ফকিরহাট ঘাটে নিয়ে আসে। তবে কালাম পাইক ও শহীদুল খান এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
উদ্ধার হওয়া জেলে কামাল ও জামাল জানান, তাদের ধারণা নিখোঁজ দুই জেলে ট্রলারের ভেতরে আটকা পড়েছিলেন এবং বের হতে পারেননি।
এদিকে ট্রলার মালিক তপন জোমাদ্দার দাবি করেন, বৈরি আবহাওয়ায় নয়, অন্য একটি ট্রলারের ধাক্কায় তার ট্রলার ডুবে যায়। তিনি বলেন, “আমার ট্রলারের দুই জেলে কালাম পাইক ও শহীদুল খান এখনও নিখোঁজ। তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।”
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম বলেন, দুই জেলে নিখোঁজ থাকার বিষয়টি জানা গেছে। তাদের উদ্ধারে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, দুটি ট্রলারে মোট ১৮ জন জেলে ছিলেন। এর মধ্যে ১৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে অভিযান চলছে।
অন্যদিকে, একই এলাকায় মঙ্গলবার নিখোঁজ হওয়া এক পর্যটক ও দাখিল পরীক্ষার্থী আসাদুল ইসলামকেও একদিন পার হলেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

