রাসেল আহমেদ খুলনা প্রতিনিধি
টানা বর্ষণে ক্ষেতের পর ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় খুলনার হাট-বাজারে দেখা দিয়েছে সবজির চরম সংকট। আর এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারে—সবজির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিনগুণ পর্যন্ত। হঠাৎ করে এমন মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।
শনিবার (২৩ আগস্ট) তেরখাদা,রুপসা ও বটিয়াঘাটাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, এক কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, পটল ৭০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, আলু ২০ টাকা, আর কাঁচামরিচ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে—যা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য রীতিমতো দুঃস্বপ্ন। এছাড়া শিম ও গাজরের দাম দাঁড়িয়েছে ২০০ ও ১৬০ টাকা, পেঁয়াজ ৭০ টাকায়।
রিকশাচালক মোরসেদুল রহমান বলেন, “ছয়জনের পরিবার চালাতে হয়। দিনে যে টাকা কামাই করি, এই দামে বাজার করে সংসার চালানো একেবারেই অসম্ভব।”
তেরখাদার কাটেঙ্গা বাজারের দিনমজুর মাসুদ শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাজারে ঢুকতেই ভয় লাগে। কোনো সবজির দাম ৫০ টাকার নিচে নেই। এই আয় দিয়ে কীভাবে সংসার চালাব?”
সেনের বাজারের সবজি ব্যবসায়ী ইলিয়াস জানান, “টানা বৃষ্টিতে কৃষকের অনেক সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। মোকামে পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই, আমদানিও কম। কিন্তু মানুষের চাহিদা তো আছে, তাই দাম বাড়ছেই।”
তেরখাদা উপজেলার কৃষক নিজাম খা বলেন, “আমার তিন বিঘা জমির সব ফসল পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। যা সামান্য বেঁচে আছে, তা বাজারে বিক্রি করছি। দাম ভালো পেলেও এত বড় ক্ষতি পূরণ হবে না।”
স্থানীয় কৃষি বিভাগ বলছে, টানা বর্ষণের কারণে কৃষকের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টিপাত কমলে এবং নতুন ফসল উঠলে বাজারে স্বস্তি ফিরতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

