কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ৫৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৯টিতেই নেই কোনো প্রধান শিক্ষক। ফলে দাপ্তরিক কার্যক্রম ও পাঠদান উভয়ই ব্যাহত হচ্ছে। সিনিয়র সহকারী শিক্ষকরা ‘ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও একইসঙ্গে প্রশাসনিক কাজ ও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান সামলাতে গিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। এতে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অভিভাবকেরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলার অভাব দেখা দিয়েছে। শিক্ষকরা দাপ্তরিক কাজে সময় ব্যয় করায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
বানদিঘী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম মাসুদ হেলালী বলেন, “আমার বিদ্যালয়ে ১৩৬ জন শিক্ষার্থী আছে। একইসঙ্গে শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক কাজ সামলাতে গিয়ে দুই দিকেই সমস্যা হচ্ছে।”
বিয়ালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান জানান, “প্রতিদিন ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি অফিসের কাজও করতে হয়। একটি কাজ করতে গেলে অন্যটি ফেলে রাখতে হয়। ফলে চরম চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে।”
অভিভাবকেরা অভিযোগ করেন, শিক্ষক সংকটের কারণে শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ কমছে। শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা দ্রুত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান।
কালাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৫৪টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৫টিতে প্রধান শিক্ষক আছেন, বাকি ১৯টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। ২০১৭ সাল থেকে নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ থাকায় এ সংকট আরও প্রকট হয়েছে। পাশাপাশি কিছু বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা থাকায় নতুন নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না।
কালাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রাশিদুল আলম বলেন, “প্রধান শিক্ষক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।”

