যশোর প্রতিনিধি
যশোর সরকারি এম এম কলেজের সদ্য বিদায়ী অধ্যক্ষ ড. মিজানুর রহমান-এর বিদায় ভাষণে দেওয়া বদলির হুমকি ও আপত্তিকর মন্তব্যে চরম হতাশা ও আতঙ্কে রয়েছেন কলেজের সাধারণ শিক্ষক ও কর্মচারীরা। বিদায়ের দিন তিনি শিক্ষক-সহকর্মীদের নিয়ে নিন্দনীয় ও কটূক্তিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ায় শিক্ষক সমাজে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে অধ্যক্ষ ড. মিজানুর রহমানের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত শিক্ষক-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্যে বলেন,”আমি মোনাফেক হতে চাই না, কাফের হতে চাই। মোনাফেকরা সবার সাথে সুসম্পর্ক রেখে চলে, তারা ভালো না। কাফেররা ভালো।”
এমন ধর্মীয় রেফারেন্স টেনে বিতর্কিত মন্তব্যের পাশাপাশি তিনি নিজেকে “তীর্থযাত্রী” উল্লেখ করে সহকর্মীদের “কুকুর” আখ্যা দিয়ে রূপক অর্থে তুলনা করেন। উপস্থিত শিক্ষকরা এ বক্তব্যে চরমভাবে অপমানিত বোধ করেন এবং অনুষ্ঠান শেষে কেউই বিদায়ী অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলেননি, বরং তাকে নীরব বিদায় জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার এক পর্যায়ে ড. মিজানুর রহমান বলেন,“এখনও সময় আছে। কার বদলি কোথায় হবে, সেটা আমি ঠিক করব।”
অনেক শিক্ষক অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি শিক্ষক ও কর্মচারীদের বান্দরবান, খাগড়াছড়ির মতো দূরবর্তী এলাকায় বদলির হুমকি দিতেন। সেইসঙ্গে কলেজের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারীকে তার কক্ষে ডেকে মানসিকভাবে হেনস্থা করেন।
একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, ড. মিজানুর রহমান বিদায় অনুষ্ঠানে কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর আকতার হোসেনকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অন্য সকল শিক্ষকের মানহানি করেন। জানা গেছে, প্রফেসর আকতার হোসেনের শ্বশুরবাড়ি ঝিনাইদহের কালিগঞ্জে, তিনি সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারের বড় ভাইয়া হিসেবে পরিচিত। শিক্ষকদের অভিযোগ, আনারের দাপটকে পুঁজি করে আকতার হোসেনের প্রভাব প্রতিষ্ঠা করতে ড. মিজানুর রহমান নানা পন্থায় চেষ্টা করেছেন।
কলেজের ৯০ জনের বেশি বেসরকারি কর্মচারী অভিযোগ করেছেন, তাদের অবসরকালীন দুই লাখ টাকার সুবিধা ড. মিজান বন্ধ করে গেছেন। বিষয়টি এখনও লিখিতভাবে না পেলেও তারা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।
বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর এস. এম. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,“বিদায়ী অধ্যক্ষ ড. মিজানুর রহমান বিদায় অনুষ্ঠানে বদলির হুমকি দিয়েছেন, ঘটনাটি সত্য। আমি সেদিন সভাপতিত্ব করেছি।”

