ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
চলতি মৌসুমে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলায় পৌরসভাসহ ১৫টি ইউনিয়নে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছেন কৃষকরা। গত বছরের তুলনায় এবার বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। বর্তমানে শেষ সময়ের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন পেঁয়াজ চাষিরা। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এ বছর প্রায় ৩ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ১২ হাজার ৮৪৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৫০০ কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে পেঁয়াজের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলার ধলহরাচন্দ্র, মনোহরপুর, আবাইপুর, দিগনগর, নিত্যানন্দপুর, হাকিমপুর ও উমেদপুর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে এবার পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮০০ হেক্টর বেশি।
আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর কৃষকরা ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ উত্তোলন শুরু করবেন। উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে আরও বেশি কৃষক পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চরধলহরা গ্রামের পেঁয়াজ চাষি ইসলাম সরদার জানান, তিনি এ বছর ৫ একর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছেন। পেঁয়াজের বীজের দাম বেশি হওয়ায় প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে প্রতি বিঘায় ৬০ থেকে ৭০ মণ পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করছেন তিনি। তবে বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজের দাম ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা না হলে খরচ উঠবে না বলে জানান তিনি।
সাধুহাটি গ্রামের কৃষক কামাল মাস্টার জানান, তিনি এ বছর প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। তবে পেঁয়াজে পচন ও বিভিন্ন রোগ দেখা দেওয়ায় ভাইরাস দমনে কীটনাশক ব্যবহার করতে হচ্ছে, ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান বলেন, পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রণোদনা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কৃষকরা এ বছর পেঁয়াজ চাষে লাভবান হবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

