মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার বেলডাঙ্গায় উত্তরবঙ্গ শিশু উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্যোগে শিশুদের মাঝে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিষয়ে সচেতনতা এবং আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে এক প্রেরণামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (০৮ মে) সকালে প্রকল্প অফিসে আয়োজিত এ সেমিনারে প্রকল্পে নিবন্ধিত ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে শিশু-কিশোররা অংশগ্রহণ করে। “সাংবাদিকতা বিষয়ক সেমিনার” শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে উত্তরবঙ্গ শিশু উন্নয়ন প্রকল্প বেলডাঙ্গা, বিডি-০২০৩। এতে অর্থায়ন করে কম্প্যাশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। সেমিনারটি সকাল ১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলে।
অনুষ্ঠানে গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দৈনিক স্বাধীন ভোর পত্রিকার দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি ও দি বাংলাদেশ টুডে পত্রিকার বিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ ইব্রাহীম মিঞা। তিনি শিক্ষার্থীদের সামনে সাংবাদিকতার মৌলিক ধারণা, সংবাদ সংগ্রহের পদ্ধতি, গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা, সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতার গুরুত্ব এবং সমাজ গঠনে সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি সমাজের দর্পণ এবং রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করার মানসিকতা একজন প্রকৃত সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় গুণ। বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে গণমাধ্যমের গুরুত্বও বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন তরুণদের সাংবাদিকতায় এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
আলোচনায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকতা পেশা সম্পর্কে নানা প্রশ্ন করে এবং আগ্রহ প্রকাশ করে। তাদের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্য থেকেই দেশের যোগ্য, সৎ ও সাহসী সাংবাদিক তৈরি হবে, যারা সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরবে এবং দেশ ও জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সেমিনারে মোঃ ইব্রাহীম মিঞা বলেন, “সাংবাদিকতা যেমন একটি ঝুঁকিপূর্ণ পেশা, তেমনি এটি অত্যন্ত সম্মানজনকও। এখানে সত্য প্রকাশের সাহস, সততা ও দায়িত্ববোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ প্রায় এক যুগের সাংবাদিকতা জীবনে এই প্রথম শিশু-কিশোরদের নিয়ে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিষয়ে সরাসরি আলোচনা করার সুযোগ পেয়েছি। বিষয়টি আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও অনুপ্রেরণার।”
তিনি আরও বলেন, শিশুদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই সঠিক চিন্তাভাবনা, নেতৃত্বগুণ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরি করতে এ ধরনের কর্মশালার গুরুত্ব অপরিসীম। এর মাধ্যমে তারা শুধু সাংবাদিকতা নয়, সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে সচেতন নাগরিক হিসেবেও গড়ে উঠতে পারবে।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে সাংবাদিকতা বিষয়ে আগ্রহ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও শিশু-কিশোরদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের শিক্ষামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

