কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, পতিত সরকারের আমলে নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ব্যাপক জুলুম ও অত্যাচার হয়েছে, যা বর্ণনাতীত।
তিনি বলেন, “নির্বাচনী ইশতেহারে পাঁচটি অধ্যায় রয়েছে। প্রথম অধ্যায় হলো রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার। আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করবে। পতিত সরকারের কোনো বৈধতা ছিল না, আইনি কাঠামোও ছিল না। তারা লুটপাট করেছে, জনকল্যাণে কোনো কাজ হয়নি।”
তিতুমীর আরও বলেন, দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন এবং টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা গড়ে তোলা। পতিত সরকার ভবন নির্মাণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে লুটপাট করেছে, কিন্তু বেকারত্বের অভিশাপ রেখে গেছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নেই, যন্ত্রপাতি আছে কিন্তু চালানোর লোক নেই। নতুন সরকার কর্মসংস্থান, সুস্বাস্থ্য ও নারীর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেবে। নারীর উন্নয়নই দেশের উন্নয়নের মাপকাঠি।
আজ শুক্রবার দুপুরে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে ‘উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর টেকসই জীবনমান উন্নয়নে সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ সেলিমুজ্জামান সেলিম, গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর, জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ-উজ-জামান, জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহসহ অনেকে।
খুলনার দাকোপ উপজেলার কৃষক নিমাই কুমার রায় বলেন, উপকূলীয় এলাকায় বনদস্যুদের আক্রমণ, রাস্তাঘাটের অবনতি ও স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতার কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। টেকসই উন্নয়নের পাশাপাশি জীবনমান উন্নয়নে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া দরকার। নতুন সরকার এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সেমিনারে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

