দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ভিজিএফ’র চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি অভিযোগ উঠেছে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দরিদ্র ও দুস্থদের জন্য বরাদ্দ হওয়া ভিজিএফ কর্মসূচির চাল ১০ কেজির পরিবর্তে তারা পেয়েছে ৬ কেজি। দৌলতপুর উপজেলা খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) সেলিম রেজার বিরুদ্ধে দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ হওয়া চাল বিতরণে অনিয়ম, দুর্নীতি ও চাল আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগে জানা গেছে, ৫০ কেজির বস্তায় চাল সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৪০ কেজি। এরফলে বিভিন্ন ইউনিয়নে দরিদ্র, অসহায় ও দুস্থদের জন্য বরাদ্দ হওয়া জনপ্রতি ১০ কেজি চালের পরিবর্তে তাদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে মাত্র ৬ থেকে ৭ কেজি করে। আর এমন অভিযোগ দৌলতপুরের ১৪ ইউনিয়নেই রয়েছে। ঈদ বা বিভিন্ন উৎসবে অথবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চাল বা খাদ্য বিতরণ করা হয়ে থাকে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগীদের মাঝে এসব চাল বিতরণ করা হয়। আর দরিদ্র বা অসহায়দের জন্য বরাদ্দ হওয়া চালে বিতরনে ঘটেছে এমন গরমিল।
জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ২০ হাজারের অধিক কার্ডধারী পরিবারকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। সেলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতিটি অসহায় পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বরাদ্দ হওয়া চালের সঠিক ওজন নিশ্চিত করে স্বচ্ছতার সঙ্গে বিতরণ করারও বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলার রিফায়েতপুর ইউনিয়নে ১ হাজার ৮০৫টি কার্ডের বিপরীতে মোট ১৮ হাজার ৫০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। যা ৫০ কেজি করে ৩৫৫বস্তা চাল হওয়ার কথা। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদে চাল পৌঁছানোর পর দেখা যায়, অধিকাংশ বস্তায় ৫০ কেজির পরিবর্তে ৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ কেজি পর্যন্ত চাল রয়েছে। এরফলে ১ হাজার ১০০ কেজি চাল কম পাওয়া যায় বলে অভিযোগ করা হয়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, ভিজিএফের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে এ ধরনের অনিয়ম অসহায় মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। চাল পরিবহন ও খালাস কাজে নিয়োজিত শ্রমিক বাদল ও মামুন জানান, তারা ৩৫৫ বস্তা চাল ইউনিয়ন পরিষদে নামিয়েছেন। বস্তার গায়ে ৫০ কেজি ওজন লেখা থাকলেও বাস্তবে কোনো বস্তাতেই সেই পরিমাণ চাল পাওয়া যায়নি। রিফায়েতপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বকুল বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ হওয়া চালের অধিকাংশ বস্তাতেই ওজন কম পাওয়া গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দৌলতপুর উপজেলা খাদ্য গুদামের (ইনচার্জ) কর্মকর্তা সেলিম রেজা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। একই সঙ্গে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন এবং পরে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার কথা বলেন।
দরিদ্রদের চাল বিতরণে অনিয়মের বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিন্দ্য গুহ বলেন, বিষয়টি এখনও আমার নজরে আসেনি। কোনো ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুবিধা বঞ্চিত দরিদ্ররা আশ্বাসে বিশ্বাসী নয়, তাদের প্রাপ্যতা বুঝে দেওয়া হোক এমন দাবি সুবিদাভোগীদের।

