মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুরের বিরামপুরে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো “বিরামপুর সাধারণ জ্ঞান অলিম্পিয়াড ২০২৬”। তরুণ নেতৃত্বাধীন সামাজিক সংগঠন ওএবি ফাউন্ডেশন-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষামূলক আয়োজন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, বিশ্লেষণী দক্ষতা, নেতৃত্ব বিকাশ এবং পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বিরামপুর সরকারি কলেজে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থীর প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নিবন্ধিত ৩২০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩০৮ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়, যা আয়োজনটির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও ইতিবাচক সাড়ার প্রমাণ বহন করে। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ওএবি ফাউন্ডেশন বর্তমানে দেশের প্রায় ২৫০০-এর বেশি ভলেন্টিয়ার নিয়ে শিক্ষা, যুব উন্নয়ন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিরামপুরে এই প্রথমবারের মতো এমন একটি সাধারণ জ্ঞানভিত্তিক অলিম্পিয়াড আয়োজন স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। আয়োজনটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা ধরা, C3ER BRAC University এবং The Earth। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়া পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিষয়ক প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত ছিল। কেবল প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ভাবনা ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে আয়োজন শেষে অনুষ্ঠিত হয় “জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সচেতনতা” এবং “ক্যারিয়ার গাইডলাইন” বিষয়ক দুটি বিশেষ সেশন। সেশন পরিচালনা করেন রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ইউনিসেফের চিফ তৌফিক আহমেদ, সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ও ৪০তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার এমডি সোহেল রানা, ৪৯তম বিসিএস সুপারিশপ্রাপ্ত রাকিবুল ইসলাম আলিক এবং রাকিব হোসেন। তাদের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। দুপুরে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিরামপুর সরকারি কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল অদ্বৈত কুমার অপু।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. তানজিনা খাতুন। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হারুনর রশীদসহ বিভিন্ন শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক। বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে জ্ঞান, সচেতনতা ও নেতৃত্বের চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা ওএবি ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের আয়োজন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। অলিম্পিয়াডে ৬টি ক্যাটাগরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী মোট ১২ জন শিক্ষার্থীকে মেডেল ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। পাশাপাশি সকল অংশগ্রহণকারীকে সার্টিফিকেট এবং পরিবেশবান্ধব বার্তা ছড়িয়ে দিতে আমলকি, গোলাপজাম ও মেহগনি গাছের চারা উপহার দেওয়া হয়। এটি আয়োজনটির পরিবেশবান্ধব ও সচেতনতামূলক দিককে আরও অর্থবহ করে তুলেছে। পুরো অনুষ্ঠান সফল করতে ওএবি ফাউন্ডেশন বিরামপুর টিমের প্রায় ৩০ জন ভলেন্টিয়ার নিরলসভাবে কাজ করেন। তরুণদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, নেতৃত্ব বিকাশ, পরিবেশ সচেতনতা ও ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে এ ধরনের শিক্ষামূলক আয়োজন ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে।

