বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের দাওকাঠি গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে দুলাল মোল্লা (৬৫) নামে এক ব্যক্তির বসতঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। দুলাল মোল্লা ওই গ্রামের মৃত চান্দু মোল্লার ছেলে। অভিযুক্ত ফারুক সিকদার ও তার ছেলে জামাল সিকদার এবং কামাল সিকদার একই গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুন রাতে দাওকাঠি গ্রামের দুলাল মোল্লার ছেলে রাকিব মোল্লা, রবিউল মোল্লা এবং বেল্লাল ফকিরের ছেলে হাসিব ফকিরের বিরুদ্ধে একই গ্রামের জামাল সিকদারের জামাতা চয়ন খানকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। গুরুতর আহত চয়ন খান বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ৩ জুন রাতে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকেলে আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে শ্যামপুর-বাকেরগঞ্জ সড়কের দাওকাঠি মাদারিয়া পাড় এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, মানববন্ধনের একপর্যায়ে দুলাল মোল্লার পরিবারের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে আবির খান (২৫) ও আরিফুল খান (৪০) নামে দুইজনকে কুপিয়ে আহত করেন। পরে আহতদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনার পর ফারুক সিকদার ও জামাল সিকদারের লোকজন দুলাল মোল্লার বাড়িতে হামলা চালিয়ে বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। অগ্নিকাণ্ডে নগদ টাকা, জমির দলিল এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ প্রায় ৭ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে বলে দাবি করেছেন দুলাল মোল্লার পরিবার।
দুলাল মোল্লার স্ত্রী তাসলিমা বেগম বলেন, “আমাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়। বাধা দিতে গেলে পরিবারের সাতজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আমাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এসে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।”
তিনি আরও জানান, পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ফারুক সিকদার ও জামাল সিকদার বলেন, “দুলাল মোল্লার ঘরে আগুন লাগার বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। মানববন্ধন শেষে বাড়ি ফেরার সময় দুলাল মোল্লা ও তার ছেলেরা আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এতে আবির খান ও আরিফুল খান গুরুতর আহত হন।”
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্থানীয় কিছু উৎসুক জনতা অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটাতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, পূর্বের হত্যাচেষ্টা মামলায় রবিউল ইসলাম (২৭) এবং আবির খান ও আরিফুল খানের ওপর হামলার ঘটনায় মামুন মোল্লা (৩০), সাকিব মোল্লা (১৯) ও জাহিদুল ইসলাম (২০) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

