জাবিপ্রবি প্রতিনিধি
দীর্ঘ সাড়ে আট বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। ২০১৭ সালের ২৮ নভেম্বর গেজেটভুক্ত হওয়ার পর থেকে পূর্ণাঙ্গ স্থায়ী ক্যাম্পাস ও আধুনিক অবকাঠামোর অভাবে ধীরগতিতে চলছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম। অবশেষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের জন্য ১ হাজার ৫৭৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের পর এ খবর ক্যাম্পাসে পৌঁছালে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর জাতীয় সংসদে বিল পাসের পর ২৮ নভেম্বর গেজেটভুক্ত হয় তৎকালীন ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ (বর্তমান জাবিপ্রবি)। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলেও এখনো বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি পুরোনো ফিশারিজ কলেজের অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে চলছে।
স্থায়ী ক্যাম্পাস, আধুনিক ল্যাব ও একাডেমিক ভবনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। নতুন বাজেটে বড় অঙ্কের বরাদ্দের প্রস্তাবকে সেই আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাজেটে বরাদ্দের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন জাবিপ্রবির নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন। তিনি বলেন, “এটি আমাদের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় সুখবর এবং দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে এই বরাদ্দ রাখায় আমরা সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “জাতীয় সংসদে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরায় জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রতিও আমরা কৃতজ্ঞ।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে উপাচার্য জানান, বাজেট চূড়ান্তভাবে পাস হলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাকে গুরুত্ব দিয়ে জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
চলতি মাসের শেষ দিকে জাতীয় সংসদে অর্থবিল পাসের মাধ্যমে এই বাজেট চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

