মমিনুল ইসলাম,ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভার ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার অনুষ্ঠানে ‘গণশুনানি’ শব্দটি ব্যবহার করা হলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত সীমিত। অনুষ্ঠানে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও স্থানীয় গুটি কয়েক সাংবাদিকদের উপস্থিতি থাকলেও সাধারণ নাগরিকের উপস্থিতি ছিল হাতে গোনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গণশুনানির মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের মতামত গ্রহণ, তাদের চাহিদা ও সমস্যার কথা শোনা এবং সেসব বিবেচনায় বাজেট প্রণয়ন করা। কিন্তু এ অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হওয়ায় সেই উদ্দেশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন বলেন, জনগণের মতামত নেওয়ার কার্যকর কোনো পরিবেশ বা সুযোগ সৃষ্টি করা হয়নি। ফলে এটি প্রকৃত অর্থে গণশুনানি না হয়ে আনুষ্ঠানিকতা পালনের একটি আয়োজনেই সীমাবদ্ধ ছিল। এ নিয়ে সচেতন মহলের প্রশ্ন, যে আয়োজনে জনগণের উপস্থিতিই নিশ্চিত করা যায় না, সেটিকে ‘গণশুনানি’ বলা কতটা যৌক্তিক? জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণ ছাড়া এমন আয়োজন কি শুধুই নিয়মরক্ষার একটি প্রক্রিয়া? এদিকে, ত্রিশাল বার্তার সম্পাদক শামীম আজাদ আনোয়ারও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, “খালি চেয়ারেই ত্রিশাল পৌরসভার বাজেট ঘোষণা, খাবার নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড!” ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরেও বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেন স্থানীয় সাংবাদিক সাইফুল আলম তুহিন। তিনি লিখেছেন, “কবে যে কী বাজেট ঘোষণা হয়! আর কোনদিকে, কীভাবে বাজেট বাস্তবায়ন হয়, খোঁজই তো পাই না। যাই হোক, বাজেটের সুফল পৌরবাসীই ভালো বলতে পারবে?” এদিকে, গণমাধ্যমকর্মী মোনালিসা আক্তারও নিজের ফেসবুক আইডিতে এ আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি লিখেছেন, “ত্রিশাল পৌরসভার ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার ব্যানারে ছিল ‘গণশুনানি’র নাম, কিন্তু বাস্তব চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
অনুষ্ঠানে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও সাংবাদিকদের উপস্থিতি থাকলেও সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত নগণ্য। প্রশ্ন উঠেছে, যে আয়োজনে জনগণের উপস্থিতিই নিশ্চিত করা যায় না, সেটিকে ‘গণশুনানি’ বলা কতটা যৌক্তিক? জনগণের মতামত নেওয়ার পরিবর্তে এটি কি শুধুই আনুষ্ঠানিকতা পালনের আরেকটি আয়োজন?” স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে বাজেট ঘোষণার আগে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করে তাদের মতামত গ্রহণ করা হলে গণশুনানির প্রকৃত উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা প্রতিফলিত একটি অংশগ্রহণমূলক বাজেট প্রণয়ন সম্ভব হবে।
প্রেসক্লাব ত্রিশালের সভাপতি ইমরান হাসান বুলবুল বলেন, “ত্রিশাল পৌরসভার ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা ও গণশুনানির অনুষ্ঠানের বিষয়ে আমরা কিছুই জানতাম না। আমাদের কোনো ধরনের আমন্ত্রণ বা অবহিত করা হয়নি। গণশুনানি বলতে কী বোঝায়, পৌর প্রশাসক নিজেই সেটি উপলব্ধি করেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। যেখানে সাংবাদিকরাই অনুষ্ঠানের বিষয়ে জানেন না, সেখানে সাধারণ জনগণ জানবে—এটা কীভাবে আশা করা যায়?”
ত্রিশাল পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা নওশীন আহমেদ বলেন, “আমি অসুস্থ থাকায় বাজেট অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারিনি।” এ বিষয়ে জানতে ত্রিশাল পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

