জাবিপ্রবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বন্যাদুর্গত ৩৮টি পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ছাত্র কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে সংগ্রহ করা তহবিল থেকে উপজেলার কদম রসুল, ডোংরা ও খানখানাবাদ গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত ৩৮টি পরিবারের প্রত্যেককে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর জন্য ‘মডেল কলেজ নির্বাচন-২০২৬’ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
আবেদন করুন:https://collegeportal.nu.ac.bd/

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক বন্যায় বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী এসব গ্রামের বহু বসতঘর, কৃষিজমি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ত্রাণ তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেন।
সহায়তা পাওয়া কদম রসুল গ্রামের বিধবা সানোয়ারা বেগম বলেন, “আল্লাহ তোমাদের রহম করুন। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। স্বামী-স্বজন, ঘরবাড়ি কিছুই আর নেই। কোনোমতে বেঁচে আছি। তোমাদের এই সহায়তা আমাকে নতুন করে বাঁচার সাহস দিয়েছে।”
ডোংরা গ্রামের বাসিন্দা শাহিন আক্তার বলেন, “আমাদের গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি সবই বন্যায় নষ্ট হয়ে গেছে। সন্তানদের নিয়ে সামনের দিনগুলো কীভাবে কাটবে, সেই দুশ্চিন্তায় ঘুম আসে না।”
চট্টগ্রাম বিভাগীয় ছাত্র কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সহযোগিতায় আমরা মোট ৬৪ হাজার ২৮৩ টাকা সংগ্রহ করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি গ্রামের ৩৮টি পরিবারকে যাচাই-বাছাই করে এই সহায়তা দেওয়া হয়েছে। শুরুতে টিন কিনে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়া, সময়ের সীমাবদ্ধতা এবং স্বেচ্ছাসেবকের স্বল্পতার কারণে নগদ অর্থ বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই মানবিক উদ্যোগে সহযোগিতাকারী সবার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। খুব শিগগিরই আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা হবে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মিনহাজ, কোষাধ্যক্ষ সজরুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

