শাহীন আহমেদ, ভেদরগঞ্জ (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে সাজেদা জাব্বার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সচেতনতামূলক এ আয়োজনে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরযান চালকদের মধ্যে খাবার, টি-শার্ট ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
এ উপলক্ষে সখিপুরের জব্বার পল্লী গণকবরস্থান সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতামূলক বার্তা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে আগে থেকেই সচেতন হতে হবে। বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। বিশেষ করে পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার, ডাবের খোসা, ফুলের টবসহ যেসব স্থানে পানি জমে এডিস মশার বংশবিস্তার হতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
সাজেদা জাব্বার হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চিকিৎসার পাশাপাশি জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যেই হাসপাতালের পক্ষ থেকে এ ধরনের ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়েছে। ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
হাসপাতালের চেয়ারম্যান খোকন মুন্সি বলেন, মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমাজের প্রতিটি মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
আয়োজনে অংশ নেওয়া স্থানীয় অটোরিকশাচালকরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে চলাচল করতে হয়। নিজেদের ও যাত্রীদের মশাবাহিত রোগ থেকে নিরাপদ রাখতে পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি বা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংস ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

