Nabadhara
ঢাকামঙ্গলবার , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাইয়ের অভিযোগ, অসুস্থ নার্স বিথীর পাশে ইউএনও

শামীম শেখ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শামীম শেখ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

সিজারিয়ান অপারেশনের পর পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগে গুরুতর অসুস্থ নার্স বিথী আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে তিনি উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজ উদ্দিন মৃধাপাড়ায় বিথীর স্বামীর বাড়িতে যান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান।

ইউএনও অসুস্থ বিথীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসার জন্য সরকারি পর্যায় থেকে সম্ভব সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ সময় তিনি বিথীর চার মাস বয়সী শিশুকে কোলে নিয়ে আদর করেন। পরে বিথীর স্বামী রাকিবুল ইসলামের হাতে নগদ অর্থসহ শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেন।

বিথীর স্বামী রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার স্ত্রীর সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অপারেশনের সময় পেটে গজ রেখেই সেলাই করে দেওয়া হয়েছিল বলে তাদের অভিযোগ। কয়েক দিন পর বিথীর পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে পেটে গজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত হয়। পরে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করে গজটি বের করা হয়।

রাকিবুল বলেন, দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের পর থেকে গত চার মাস ধরে বিথীর শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন। অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারছেন না বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট অন্য কেউ তাদের পাশে দাঁড়ায়নি। ইউএনও বাড়িতে এসে খোঁজ নেওয়া এবং সহায়তা করায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বিথীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ইউএনও মো. সাইফুল হুদা বলেন, “বিথীর অসুস্থতার বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। খবর পাওয়ার পরই তার চার মাসের শিশুসন্তান ও পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।”

তিনি আরও বলেন, “বিথীর মতো একজন নার্সের সঙ্গে যদি ভুল চিকিৎসার ঘটনা ঘটে, তাহলে সাধারণ মানুষের কী হবে—বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।” জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

ইউএনও জানান, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিথীর স্বামীর হাতে নগদ অর্থ এবং শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও বিথীর পরিবারের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।

পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে ৬১ কেজি ওজনের বিথীর ওজন কমে বর্তমানে ৩৯ কেজিতে দাঁড়িয়েছে। তিনি চার মাস ধরে নিজের শিশুকে কোলে নেওয়া কিংবা দুধ খাওয়ানোর মতো অবস্থায়ও নেই।

কয়েক দিন আগে হাসপাতালের শয্যায় থেকেই বিথী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. অরবিন্দ বিথীর সিজারিয়ান অপারেশন করেন। ওই অস্ত্রোপচারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।