কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের জামিন পেয়ে বাড়ি ফেরার পথে গ্রেপ্তার হয়েছেন চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলার আট আসামি। ফরিদপুরের ভাঙ্গা মহাসড়ক এলাকায় একটি পরিবহন বাসে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে র্যাব-১০। পরে আলফাডাঙ্গা থানার একটি বিস্ফোরক মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১০-এর স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১০) ভাঙ্গা মহাসড়ক এলাকায় একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. রুবেল শেখ (৪০), মো. আশিক শেখ (২৭), মো. এলায়েত শেখ (৫৫), মো. মন্টু শেখ (২৮), মো. উজ্জল শেখ (৪০), মো. সাগর শেখ (২৩), মো. সজল শেখ (২১) ও সাজ্জাদ শিকদার (৩৫)। তাঁরা সবাই আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামের বাসিন্দা।
র্যাবের অভিযান শেষে তাঁদের পুলিশের বিশেষ গাড়িতে ফরিদপুরে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়ভাগ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার ও গ্রাম্য বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে একাধিক সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টা হামলা ও মামলা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ জুন বড়ভাগ পূর্বপাড়া এলাকায় উকিল শেখের বাড়ির সামনে সুমন শেখ (৩০) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সুমন ছিলেন চা-দোকানি রবিউল ইসলাম শেখ ওরফে পাইচোর ভাতিজা।
এর প্রায় আড়াই মাস পর, গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে রবিউল ইসলাম শেখ ওরফে পাইচোসহ কয়েকজনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রবিউল ইসলাম নিহত হন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এর আগে গত ১ অক্টোবর রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় এলাকা থেকে চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি উকিল শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল সরোয়ার বলেন, র্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার আটজনকে আলফাডাঙ্গা থানার একটি বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

