মো. এনামুল হক, পঞ্চগড় প্রতিনিধি
কার্তিক মাসের শুরুতেই পঞ্চগড়ে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। মাঠে মাঠে পাকতে শুরু করেছে ধান। কোথাও চলছে কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ, আবার কোথাও চলছে ধান ঘরে তোলার প্রস্তুতি। ভালো ফলনের সম্ভাবনায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটলেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা।
একসময় অগ্রহায়ণ মাসের শুরুতে আমন ধান কাটা শুরু হতো। এখন আগাম জাতের ধান চাষের কারণে এক থেকে দেড় মাস আগেই ফসল ঘরে তুলতে পারছেন কৃষকেরা। এতে ধান কাটার মৌসুমে কৃষিশ্রমিকদের কাজের সুযোগও বেড়েছে। ধান কাটার পর জমিতে আগাম আলু, সরিষা, গম ও শীতকালীন শাকসবজি চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকে।
কৃষকেরা জানান, এবার ব্রি ধান-৩৩, ৫৬, ৬২ ও ৭২, বিনা-৭সহ বিভিন্ন আগাম জাতের ধান চাষ হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় জাতের গুটি পারি ও স্বর্ণা পারিও চাষ করেছেন তাঁরা। পুরোনো জাতের আমনে বিঘাপ্রতি ৮ থেকে ১০ মণ ফলন পাওয়া গেলেও আগাম জাতের ধানে ১৫ থেকে ২০ মণ পর্যন্ত ফলন হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।
ধানের পাশাপাশি কাঁচা খড় বিক্রি করেও বাড়তি আয় করছেন কৃষকেরা। গো-খাদ্যের চাহিদা থাকায় এক বিঘা জমির ধান কাটার পর কাঁচা খড়ের আঁটি আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সদর ইউনিয়নের কান্তমনি গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, এবার তিনি দুই বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে তাঁর জমির সব ধান পেকে গেছে। বিঘাপ্রতি ১৯ থেকে ২০ মণ ফলনের আশা করছেন তিনি। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে ধান কাটবেন।
নজরুল ইসলাম বলেন, বর্ষার শেষ দিকে ধানক্ষেতে পোকামাকড়ের আক্রমণ হওয়ায় কীটনাশক প্রয়োগে অতিরিক্ত খরচ হয়েছে। বর্তমানে ময়দানদিঘী বাজারে নতুন ধান প্রতি মণ ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি মণ ধানের দাম ১ হাজার ৫০০ টাকা হলে কৃষকেরা ভালো লাভ করতে পারবেন। ধান কাটার পর জমিতে আলু ও বিভিন্ন শাকসবজি চাষের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।
পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল মতিন জানান, চলতি আমন মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৪৪ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় আমন ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৬১ হাজার ২৮৬ মেট্রিক টন। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন ধান বাজারে আসায় বর্তমানে দাম কিছুটা কম। পুরো মৌসুমে ধান কাটা শুরু হলে এবং মিলাররা ধান কেনা শুরু করলে দাম বাড়তে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

