মো. আলী আহ্সান রাজ, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অভ্যন্তরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এখন নিত্যকার ঘটনায় পরিণত হয়েছে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের বেড খালি থাকার পরও রোগীকে সেখানে উঠতে দেওয়া হয় না। অনেক সময় দেখা যায়, বেডের জন্য কিছু অসাধু স্টাফ টাকা দাবি করে এবং একেবারে এমন পরিস্থিতি তৈরি করে যে, রোগীকে কোনোভাবেই সুবিধা দেওয়া যায় না। সুস্থ হয়ে রোগী যখন হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিতে যান, তখন নানা অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়।
হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগে স্টাফদের কর্তৃত্ব ও আধিপত্য যেন সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে। এই ধরণের দুর্নীতির চিত্র একদিন বা দু’দিনের নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক্স মিডিয়াতেও এসব অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে। কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
হাসপাতালের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দিকে অভিযোগ জানানো হলেও সেসব অভিযোগের কোনো সুষ্ঠু সমাধান এখনও দেখা যায়নি। হাসপাতাল পরিচালকের অফিসের সামনে একটি অভিযোগ বক্স থাকলেও তার কার্যকারিতা নেই, যা শুধুমাত্র একটি ফর্মালিটির প্রতিফলন বলেই মনে হয়। নবধারার প্রতিনিধি হিসেবে আমি ব্যক্তিগতভাবে কয়েকবার পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল গোলাম ফেরদৌসের সাথে সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করি, কিন্তু তার পিএস আমাকে সাক্ষাৎ করার সুযোগ দেননি। তার মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে, পূর্বের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. নাসির উদ্দিন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং দেশের মধ্যে এই হাসপাতালকে দ্বিতীয় স্থানে স্থান দিয়েছিলেন। তবে, বর্তমান পরিচালক এবং তার অধীনে স্টাফদের কারণে হাসপাতালের অবস্থা এখন অনেকটাই খারাপ হয়ে গেছে।
বর্তমানে হাসপাতালের লিফটগুলোর সংখ্যা যথেষ্ট, তবে প্রায় অধিকাংশ লিফটই অকেজো। কোনো দিন জানা যাবে না, একটি লিফট ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি একদিন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হবে।

