Nabadhara
ঢাকাশনিবার , ২৩ আগস্ট ২০২৫
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জেলার সংবাদ
  11. ঢাকা বিভাগ
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. ধর্ম
  14. প্রধান সংবাদ
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যশোরের ভবদহে জলাবদ্ধতার করুণ চিত্র: কৃষি, শিক্ষা ও জীবিকা চরম হুমকিতে

যশোর প্রতিনিধি
আগস্ট ২৩, ২০২৫ ২:৩০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

যশোর প্রতিনিধি

চীনের ‘দুঃখ’ যদি হয় হোয়াংহো নদী, তবে যশোরের ‘দুঃখ’ নিঃসন্দেহে ভবদহ। বছরের পর বছর ধরে ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতা আজ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। যশোরের অভয়নগর, মণিরামপুর, কেশবপুর ছাড়াও এবার যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ও রামনগর ইউনিয়নও যুক্ত হয়েছে এই জলাবদ্ধতার করুণ তালিকায়।

চাঁচড়ায় মুক্তেশ্বরী নদীর একটি অংশ ভরাট ও দখল করে প্লট বিক্রির ফলে সৃষ্টি হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। রামনগরে জিয়া খালসহ বিভিন্ন খাল সংস্কার না হওয়ায় বিল হরিণা এবং আশপাশের গ্রামগুলো দীর্ঘদিন ধরে পানির নিচে। নদী-খালের স্বাভাবিক গতিপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজারো বিঘা জমি অকৃষিযে পরিণত হয়েছে। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।

রামনগরের খরিচাডাঙ্গা গ্রামের মিজানুর রহমান এক সময় অন্যের জমি চাষ করে সংসার চালালেও এখন তা আর সম্ভব নয়। তার তিন ফসলি জমি প্রায় ৭-৮ মাস ডুবে থাকে জলের নিচে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এখন তার জীবন কেবলই টিকে থাকার লড়াই। মিজানুরের মতো দুর্দশায় দিন কাটছে সতিঘাটা, বলাডাঙ্গা, কাজীপুর, কামালপুর, বাজুয়াডাঙ্গা, সিরাজসিংগা, সাড়াপোল, মাহিদিয়া, চাঁচড়া ও ভাঁতুড়িয়া গ্রামের মানুষদের।

প্রবীণ ইন্তাজ আলী গাজী জানান, এক সময় মুক্তেশ্বরী নদীর সঙ্গে সংযুক্ত জিয়া খাল দিয়ে যশোর সদরসহ বিভিন্ন এলাকার পানি গিয়ে ভবদহে পড়ত। আশির দশকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিকল্পনায় খালটি খনন করা হয়। এখন সেই খাল ভরাট হয়ে গেছে, নদীর জায়গা দখল করে বিক্রি হচ্ছে প্লট। ফলে জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

চাঁচড়ার আব্দুল মজিদ বলেন, ভাতুড়িয়া বাজার সংলগ্ন কালভার্টের উত্তরে নদীর প্রবাহ বন্ধ, দক্ষিণে পানি থৈ থৈ করছে। দখল করে নদীর প্রায় ১০ বিঘা জমি প্লটে রূপান্তর করা হয়েছে। এসব অনিয়মের কারণেই মৃতপ্রায় মুক্তেশ্বরী নদী আর জলাবদ্ধতা হয়ে উঠছে অনিবার্য নিয়তি।

কামালপুর গ্রামের রওশন গাজী এখন মাছ ধরে জীবন চালান, যেখানে এক সময় সেই জমিতে চাষ করতেন। আর অসীম বিশ্বাসের ক্ষেতের ঘাসের বদলে গবাদিপশুর খাবার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে কচুরিপানা। পরিবর্তিত জীবিকা যেন কেবল দুঃখগাঁথা নয়, এক নির্মম বাস্তবতা।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি ও রামনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা দুলাল সমাদ্দার বলেন, জিয়া খাল ভরাট হওয়ায় বর্ষার বৃষ্টির পানি বের হতে পারছে না। দ্রুত উদ্যোগ না নিলে এ জলাবদ্ধতা স্থায়ী হয়ে যাবে।

প্যানেল চেয়ারম্যান রামকৃষ্ণ রায় জানান, বৃষ্টির মৌসুমে পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। কৃষিকাজ করা যাচ্ছে না, সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ ছাড়া এ পরিস্থিতির উন্নতি অসম্ভব।

জলাবদ্ধতার ফলে অনেকেই কৃষিকাজ ছেড়ে হয়েছেন দিনমজুর, রিকশা-ইজিবাইক চালক কিংবা মাছ শিকারি। শিক্ষার্থীরা যেতে পারছে না স্কুলে, ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
ভুক্তভোগীদের দাবি, দ্রুত নদী-খাল পুনঃখনন ও সংস্কারের মাধ্যমে ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।