Nabadhara
ঢাকারবিবার , ২৪ আগস্ট ২০২৫
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জেলার সংবাদ
  11. ঢাকা বিভাগ
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. ধর্ম
  14. প্রধান সংবাদ
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রূপসা ঘাটে চরম অব্যবস্থাপনা,দু’র্ভোগে পঞ্চাশ হাজার মানুষ

রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
আগস্ট ২৪, ২০২৫ ৮:১৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি

নদীবেষ্টিত শহর খুলনার গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রবেশদ্বার রূপসা ঘাট। প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এ ঘাট ব্যবহার করে শহরে প্রবেশ করছেন, বিশেষত যাদের গন্তব্য দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে খুলনা শহর। তবে বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘাটটি চরম অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।

অব্যবস্থাপনায় নাজেহাল পারাপারকারীরা

দুই পাশের পল্টুন বদলানো হলেও, এগুলো অতিমাত্রায় উঁচু হওয়ায় ওঠানামায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ভাঙ্গাচোরা পুরনো পল্টুন দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে, যা আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করছে। কিছুদিন আগে এই অনিরাপদ পল্টুনের ফাঁকে পড়ে প্রাণ হারিয়েছে ৪ বছর বয়সী একটি শিশু। এমন ঘটনা এখানে প্রায়ই ঘটছে। গ্যাংওয়ে, পল্টুন ও আশপাশের অবকাঠামোও জরাজীর্ণ, যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

টোল আদায়ে অনিয়ম ও হয়রানি

রূপসা ঘাটে একসময় টোল নির্ধারিত ছিল জনপ্রতি ১ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ টাকায়। বাইক পার করতে আগে যেখানে ৫ টাকা লাগতো, এখন তা ১০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। যেকোনো পণ্য – যেমন কম্পিউটার বা ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী – পার করার সময় আদায় করা হচ্ছে ২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। ভাড়া না দিলে পারাপারকারীদের সম্মুখীন হতে হয় হেনস্তার। অন্যদিকে পাশেই থাকা জলখানা ঘাট থেকে প্রতিদিন হাজারো মানুষ পার হলেও সেখানে কোনো টোল আদায় করা হয় না। এত বৈষম্যমূলক আচরণ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা: নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানাপোড়েন

রূপসা ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিগত কয়েক দশকে পরিবর্তন ঘটেছে বহুবার। নব্বইয়ের দশকে এটি বিআইডব্লিউটিএ’র অধীনে থাকলেও ২০০৫ সালে রূপসা সেতু চালুর পর নিয়ন্ত্রণ যায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) হাতে। বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। তবে আদালতের নির্দেশ, স্থানীয় প্রভাবশালী ইজারাদারদের দৌরাত্ম্য এবং নিয়ম বহির্ভূত ইজারা নবায়ন ঘাটের সুষ্ঠু পরিচালনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত এক বছরে ঘাট থেকে আদায় হওয়া রাজস্বের পরিমাণ মাত্র ২৫ লাখ ৮ হাজার টাকা, যেখানে আগে বছরে ৬৮ লাখ টাকা রাজস্ব আসত কেসিসির অধীনে থাকা অবস্থায়।

জনগণের দাবি ও নাগরিক সমাজের উদ্বেগ

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, “রূপসা ঘাট খুলনার প্রধান নৌযান পারাপার কেন্দ্র। এটি পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও নিয়মতান্ত্রিকতা নিশ্চিত করা না গেলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কখনোই কমবে না।

তিনি বলেন, ঘাটের ইজারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে দেওয়া এবং ফেরি চালু করাসহ টোলমুক্ত নৌপথের দাবি এখন সময়ের অনিবার্যতা।

অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএ খুলনা অঞ্চলের উপ-পরিচালক মাসুদ পারভেজ জানিয়েছেন, নতুন করে ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারা প্রদান করা হবে এবং এতে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।