মো: সাগর মল্লিক ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
আসন কমানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে বাগেরহাটে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ও সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
রোববার (২৪ আগস্ট) সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে সকাল গড়াতেই পিকেটিংয়ের তীব্রতা বাড়তে থাকে। সকাল ৯টার পর থেকেই ঢাকা-খুলনা-মোংলা মহাসড়কসহ জেলার প্রধান সড়কগুলো ফাঁকা হয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে টহল ও মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে।
ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী মোড়, টাউন নওয়াপাড়া মোড়, ফকিরহাট বিশ্বরোড মোড়, ফলতিতা-বটতলা এলাকায় সড়ক অবরোধ ও টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন হরতাল-সমর্থকরা। এসময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষকে সড়কে অবস্থান নিতে দেখা যায়। তবে রাস্তায় থাকা লোকজন জরুরি সেবা ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে কোনো বাধা দেয়নি।
হরতালের কারণে ফকিরহাটের দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। নির্ধারিত অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত করেছে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কেবলমাত্র কিছু ফার্মেসি খোলা রাখা হয়েছে।
হরতাল-সমর্থনে ফকিরহাট উপজেলা বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি ও সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির ব্যানারে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। একইসঙ্গে জেলার ৯টি উপজেলাতেই একযোগে কর্মসূচি পালনের খবর পাওয়া গেছে।
ফকিরহাট উপজেলায় কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ কামরুল ইসলাম গোরা, সাধারণ সম্পাদক শেখ শরিফুল কামাল কারিম, সাংগঠনিক সম্পাদক খান লিয়াকত আলী, উপজেলা জামায়াতের আমীর এবিএম তৈয়াবুর রহমান, সেক্রেটারি আবুল আলা মাসুমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (ফকিরহাট সার্কেল) মো. রবিউল ইসলাম শামীম বলেন, “ফকিরহাট ও মোল্লাহাটের বিভিন্ন সড়কে কয়েকটি টহল টিম সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।”
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন ছিল। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন প্রাথমিকভাবে একটি আসন কমিয়ে তিনটি করার প্রস্তাব দিলে জেলাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির ব্যানারে টানা কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজকের এই হরতাল-অবরোধ পালন করা হচ্ছে। আসন কমানো বা বহাল রাখার বিষয়ে আগামী ২৫ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

